সূচনা :
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে নতুন একটি দেশের জন্ম হয় । বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন-বাংলা মায়ের প্রিয় সন্তান, বাংলার খোকা, সবার প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ।
জন্ম :
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, বুধবার, ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়াতে শেখ পরিবারে একটি শিশুর জন্ম হয় । শিশুটির বাবা লুৎফর রহমান আদর করে নাম রাখলেন খৌকা। এই খোকা আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ।
শৈশব :
ছেলেবেলা থেকেই বন্ধুসুলভ আচরণের কারণে সহপাঠীদের প্রিয়মুখ ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। বন্ধু ও সহপাঠীদের যে কোনো সমস্যায় তিনি সবার আগে এগিয়ে আসতেন। গরিব দুঃখী মানুষের প্রতিও তাঁর ছিল অপরিসীম দরদ।
শিক্ষা :
স্কুল ও কলেজের সীমানা পেরিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন । যুক্ত হন রাজনীতির সঙ্গে ।
আরও পড়ুন :- স্বাধীনতা দিবস - রচনা ১০০, ২০০ এবং ৫০০ শব্দ
রাজনীতি :
শেখ মুজিবুর রহমান সবসময় বাংলার মানুষের কথা, দেশের কথা ভাবতেন। গরিব মানুষের দুঃখ দূর করার জন্য আন্দোলন করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে লাহোরে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। এ দাবি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ । ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন ।
স্বাধীনতা আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা :
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশ আক্রমণ করেছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পূর্বেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এদেশ স্বাধীন হয়। জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের।
উপসংহার :
শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা । তিনিই আমাদের জাতির পিতা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। জন্মস্থান টুঙ্গীপাড়ায় তাঁকে সমাহিত করা হয় । আমরা আজীবন এই মহান নেতাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করব।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরও পোস্টের তালিকা