প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এই পোস্টে আমরা দেখবো আখলাক সম্পর্কে প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি অনেক সহজ ভাষায় সুন্দর ভাবে গুছিয়ে লিখা হয়েছে। আশাকরি তোমাদের পরীক্ষাতে অনেক উপকারে আসবে। চলো তাহলে শুরু করা যাক –
আখলাক সম্পর্কে প্রতিবেদন
১ জানুয়ারি, ২০….ইং
প্রধান শিক্ষক
বিষয়: আখলাক নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন।
মহোদয়,
আমরা জানি, চরিত্র মানবজীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্য দিয়ে যে আচার-আচরণ ও স্বভাব-চরিত্রের প্রকাশ পায় তাকে আখলাক বলে। মানুষের চরিত্রের দুটি দিক রয়েছে। একটি হলো ভালো দিক ও অন্যটি মন্দ দিক। একজন মানুষকে আদর্শ মানুষরূপে গড়ে উঠতে হলে তাকে অবশ্যই উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
আখলাক একটি আরবি পরিভাষা। এটি ‘খুলুকুন’ শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো চরিত্র, স্বভাব, আচার-আচরণ, ব্যবহার, সদাচার, সৌজন্যমূলক আচরণ ইত্যাদি। এককথায় মানুষের আচার-আচরণ, চিন্তাচেতনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্য দিয়ে যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয় তাই আখলাক বা চরিত্র। মানুষের ভালো ও মন্দ দিক বিবেচনায় আখলাক বা চরিত্র দুই প্রকার। যথা- (১) আখলাকে হামিদাহ তথা প্রশংসনীয় চরিত্র বা উত্তম চরিত্র এবং (২) আখলাকে যামিমাহ তথা নিন্দনীয় চরিত্র বা মন্দ চরিত্র।
আখলাক শব্দের অর্থ চরিত্র বা স্বভাব এবং হামিদাহ শব্দের অর্থ প্রশংসনীয় বা উত্তম। অতএব আখলাকে হামিদাহ অর্থ প্রশংসনীয় চরিত্র বা উত্তম চরিত্র। এর অপর নাম হলো আখলাকে হাসানাহ বা উত্তম চরিত্র। মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ, চিন্তা-চেতনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্য দিয়ে যে উত্তম স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয় তাই আখলাকে হামিদাহ বা উত্তম চরিত্র। সাধারণত বিনয়, নম্রতা, ধৈর্য, ক্ষমা, তাকওয়া, ওয়াদা পালন, সত্যবাদিতা, আমানত রক্ষা করা প্রভৃতি গুণাবলিই আখলাকে হামিদাহ। উত্তম চরিত্র হলো মৌলিক মানবীয় গুণাবলির সমষ্টি। মূলত আখলাকে হামিদাহর ওপরই ব্যক্তিগত ও সামাজিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও সফলতা নির্ভর করে। তাই আমাদের আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভের জন্য উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া একান্ত কর্তব্য।
মানুষের চরিত্রের অন্যদিক হলো আখলাকে যামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্র। মানুষের চরিত্রের খারাপ ও বর্জনীয় দিকগুলোই হলো আখলাকে যামিমাহ। সাধারণত মিথ্যাচার, প্রতারণা, ক্রোধ, লোভ-লালসা, পরনিন্দা, মানুষকে কষ্ট দেওয়া প্রভৃতি আখলাকে যামিমাহর উদাহরণ। প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ শরিয়তের রীতিনীতি ভুলে বেপরোয়া হয়ে আখলাকে যামিমাহর বিকাশ ঘটায়। এভাবে মানুষ নিজস্ব বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলে। আর বিবেকহীন মানুষ পশুর সমতুল্য। আখলাকে যামিমাহর অধিকারী মানুষ সর্বদা খারাপ কাজ করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। আখলাকে যামিমাহর কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (আবু দাউদ)
তাই আমাদের প্রত্যেকে আখলাকে যামিমাহ বর্জন করে আখলাকে হাসানার অধিকারী হতে হবে।
প্রতিবেদক : হাবিব শিকদার
শ্রেণি : …..
শাখা : ক
