সূচনা :
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। শ্রম ব্যতীত সুখের আশা করা যায় না। এই বিশ্বসংসার শ্রমজীবী মানুষের শ্রমের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে। লাখো কোটি মানুষের যুগ-যুগান্তরের শ্রমের ওপরই রচিত হয়েছে সভ্যতার বিশাল স্থাপনা।
শ্রমের শ্রেণিবিভাগ :
শ্রম দু’প্রকার। যথা- কায়িক শ্রম এবং মানসিক শ্রম। মানুষ যখন বাহ্যিক বল প্রয়োগের মাধ্যমে পরিশ্রম করে তখন তাকে কায়িক শ্রম বলে। আবার বিভিন্ন চিন্তাভাবনার মাধ্যমে যে পরিশ্রম হয় তাকে মানসিক শ্রম বলে।
শ্রমের প্রয়োজনীয়তা :
মানবজীবন সংগ্রামময়। কেবল শ্রম দ্বারাই মানুষ তার জীবনের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-দারিদ্র্যকে জয় করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
ছাত্রজীবনে শ্রম :
আমাদের ছাত্রজীবনের শ্রমের গুরুত্ব কম নয়। নিয়মিত অনুশীলন ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে একজন ছাত্রের মানসিক উৎকর্ষ লাভ হয়।
দেশে দেশে শ্রম :
এ পৃথিবীতে যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী সে জাতি তত উন্নত। কায়িক পরিশ্রম দ্বারা মানুষ জীবজগতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। আর মানসিক পরিশ্রম দ্বারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে খুবই আশ্চর্যজনক সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।
শ্রমের মর্যাদা :
বিশ্বের সব মহামানবই শ্রমকে উপযুক্ত মর্যাদা দিয়েছেন। তাঁরা নিজেরাও তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে শ্রমসাধ্য কাজ করেছেন। মহানবি (স)-এর জীবনের প্রতি লক্ষ করলেও আমরা দেখব, তিনি নিজে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং কোনো কাজকেই অমর্যাদাকর বলে মনে করেননি।
পরিশ্রম উন্নতির চাবিকাঠি :
ব্যক্তিজীবন কিংবা জাতীয় জীবনের সব উন্নতির মূলেই রয়েছে শ্রমশক্তি। পৃথিবীতে যে জাতি যত পরিশ্রমী, সে জাতি তত উন্নত। মনে রাখতে হবে, মিথ্যা আভিজাত্য শেষ পর্যন্ত কোনো ফলই বয়ে আনে না অপরদিকে শ্রমশীলতা দেরিতে হলেও মানুষকে পুরস্কৃত করে।
শ্রমের মর্যাদা দানে দৃষ্টান্ত :
অনেক বরেণ্য ব্যক্তি শ্রমের মাধ্যমে পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার শৈশবে বাদাম বিক্রি করতেন। কাজী নজরুল ইসলাম দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও বড় কবি হয়েছিলেন।
উপসংহার :
জীবনের সর্বক্ষেত্রে শ্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিশ্রম না করে পরনির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকায় কোনো মর্যাদা নেই। সত্যিকার অর্থে পরিশ্রমেই জীবনের প্রকৃত আনন্দ।