আমরে মুতলাক (أَمْرٌ مُطْلَقٌ) কাকে বলে? অর্থ, হুকুম, উদাহরণ

আমর خَاصّ-এর অন্যতম প্রকার। আর أَمْر-এর প্রকারভেদের মাঝে আমরে মুতলাক (أَمْرٌ مُطْلَقٌ) অন্যতম। এর দ্বারা ইঙ্গিতবিহীন সাধারণ আমর উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। নিম্নে أَمْرٌ مُطْلَقٌ-এর পরিচয় ও হুকুম উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো।

আমরে মুতলাক (أَمْرٌ مُطْلَقٌ)অর্থ কি ও কাকে বলে ?

আভিধানিক অর্থ : أَمْر শব্দটি বাবে نَصَرَ-এর মাসদার। এটি مَأْمُورٌ অর্থে একবচন, বহুবচন أُمُورٌ; অর্থ— কাজ, নির্দেশ, আদেশ ইত্যাদি। আর مُطْلَقٌ শব্দটি إِطْلَاق মাসদার থেকে مَفْعُولٌ-اِسْمُ এর ওয়াহেদ মুযাক্কার -এর সীগাহ। এর অর্থ— নিঃশর্ত বিষয়, সাধারণ বিষয়। সুতরাং أَمْرٌ مُطْلَقٌ-এর একত্রে অর্থ— সাধারণ নির্দেশ, নিঃশর্ত আদেশ, সাধারণ আমর।

পারিভাষিক সংজ্ঞা : উসুলুশ শাশী গ্রন্থকার বলেন:

اَلْأَمْرُ الْمُطْلَقُ اَى الْمُجَرَّدُ عَنِ الْقَرِينَةِ الدَّالَّةِ عَلَى اللُّزُومِ وَعَدَمِ اللُّزُومِ

অর্থাৎ, যে أَمْر-এ আদিষ্ট বিষয় অবশ্য করণীয়, নাকি অবশ্য করণীয় নয় এ সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বা ইশারা নেই তাকে أَمْرٌ مُطْلَقٌ বলে।

أَمْرٌ مُطْلَقٌ-এর উদাহরণ :

আল্লাহ তায়ালার বাণী: وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

অর্থাৎ, যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর এবং চুপ থাক, তবেই তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে।

অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী : وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ

অর্থাৎ, তোমরা দু’জন ঐ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না, যদি হও তাহলে তোমরা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

উপরিউক্ত আয়াতদ্বয়ে শ্রবণ করা, চুপ থাকা এবং বৃক্ষের নিকটবর্তী না হওয়ার আদেশের ওপর কোনো প্রকার ইঙ্গিত নেই। অতএব এ হুকুমগুলো الْأَمْرُ الْمُطْلَقُ তথা সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।

আরও জানুন : মুতলাক ও মুকাইয়াদ কাকে বলে? অর্থ, হুকুম ও উদাহরণ

আমরে মুতলাক এর হুকুম :

الْأَمْرُ الْمُطْلَقُ-এর হুকুম সম্পর্কে উসুলবিদগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এটা মুলতবি কেননা أَمْر বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়। যেমন— অযুর মুস্তাহাব, মুবাহ, ভয়প্রদর্শন, সম্মান, প্রার্থনা, পরামর্শ তথা ইত্যাদি। কাজেই যে পর্যন্ত কোনো একটি অর্থ নির্ধারণের ইঙ্গিত পাওয়া না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত মুলতবি থাকাই বিধেয়।

হানাফীদের নিকট الْأَمْرُ الْمُطْلَقُ (সাধারণ আজ্ঞা)-এর হুকুম ওয়াজিব (অবশ্য করণীয়)। তবে এর বিপরীত যদি কোনো প্রমাণ থাকে তখন অন্য অর্থে থাকে না। কেননা আমর লঙ্ঘন করা পাপ; কিন্তু কার্যে পরিণত করা পুণ্য।

উদাহরণ :

وَمَنْ يَعْصِ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا

অর্থাৎ, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসুলের আবাধ্য হবে এবং তাঁর সীমা লঙ্ঘন করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে চিরদিনের জন্য জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।” এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হলো, আজ্ঞা (আমর) লঙ্ঘন করা পাপ।

মোটকথা, আমরেকে কার্যে পরিণত করা আদেশদাতার যোগ্যতা ও ক্ষমতানুযায়ী হয়ে থাকে। যেমন যদি তার প্রভু আদেশ দেন— এ কাজ কর, তখন ঐ আদেশকে কার্যে পরিণত করা দাসের ওপর ফরয হবে। কিন্তু যদি দাস প্রভুকে আদেশ করে তা ওয়াজিব হবে না। আল্লাহ তায়ালা সারা বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। তাঁর যাবতীয় আদেশ সৃষ্টিজীব মানুষের কার্যে পরিণত করা ওয়াজিব, যতক্ষণ পর্যন্ত না এর বিপরীত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

পরিশেষে : أَمْرٌ مُطْلَقٌ মূল আমরেরই অংশ। সাধারণ নির্দেশ থাকলেও যে ক্ষেত্রে অবশ্য করণীয় বা অবশ্য করণীয় নয় এমন ইঙ্গিত না থাকে তা-ই আমরে মুতলাক।

আরও জানুন : যিহার (ظِهَارٌ) অর্থ, সংজ্ঞা, কাফফারা ও হুকুম দলিল সহ

শিক্ষাগার

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে লাখো শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment