সূচনা :
মহানবি (স) দশম হিজরিতে তাঁর জীবনের শেষ হজ পালন করেন। এই হজেই তিনি জীবনের শেষ ভাষণ দেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে পরিচিত। দশম হিজরী সনের ৯ই জিলহজ আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমত পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে প্রায় দুই লক্ষ সাহাবির সমাবেশে তিনি এই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
ভাষণের মূল বিষয় :
মহানবি (স) বলেন, প্রত্যেক মানুষকে একদিন আল্লাহর কাছে হাজির হয়ে নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে। তিনি দাস-দাসীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের নিজেদের মতোই খাওয়াতে-পরাতে বলেন। নারীদের অধিকারের কথাও তিনি স্পষ্টভাবে বলেন—স্বামীর ওপর যেমন স্ত্রীর অধিকার আছে, তেমনি স্ত্রীর ওপরও স্বামীর অধিকার আছে।
সাম্যের ঘোষণা :
তিনি ঘোষণা করেন, সব মানুষ সমান, কারণ সবাই আদম ও হাওয়ার সন্তান এবং মাটি থেকে সৃষ্ট। কারো ওপর কারো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হলো তাকওয়া ও সৎকর্ম। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, পরের সম্পদ হরণ থেকে দূরে থাকতে বলেন এবং ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দেন।
মানবাধিকারের ঘোষণা :
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান আজকের এই হজের দিনের মতোই পবিত্র। তাই কারো জীবন বা সম্পদের ওপর অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। নেতার প্রতি আনুগত্যের নির্দেশও তিনি দেন এবং সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উপসংহার :
সবশেষে তিনি বলেন, তিনি দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছেন—আল-কুরআন ও রাসুলের সুন্নাহ। এই দুটি আঁকড়ে ধরে থাকলে মানুষ কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। এই ভাষণ মানবাধিকার, সাম্য ও ন্যায়বিচারের এক অমর দলিল হয়ে আছে।