বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা | Class 6–10 | SSC

উপস্থাপনা:

মানুষ সৌন্দর্যের পূজারি। অজানাকে জানা ও অচেনাকে চেনার নেশা মানুষের চিরন্তন। সৌন্দর্য-পিপাসু মানুষের এই অদম্য উৎসাহ থেকেই পর্যটন শিল্পের জন্ম হয়েছিল। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম উৎস এই পর্যটন শিল্প।

পর্যটন কী :

অচেনাকে চেনার ও অদেখাকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করাকে পর্যটন বলে। পর্যটন একাধারে একটি দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকাণ্ড। পর্যটন শব্দের অর্থ ভ্রমণ। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যেসব শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে পর্যটন শিল্প বলে। বর্তমানে পর্যটন একটি শিল্প হিসেবে স্বীকৃত।

পর্যটকের পরিচয় :

পর্যটক শব্দের অর্থ ভ্রমণকারী। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মতে, পর্যটক হলেন অস্থায়ী ভ্রমণকারী, যিনি কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা কোনো স্থানে থাকেন। তাঁর উদ্দেশ্য হতে পারে অবসর কাটানো, পারিবারিক কাজ, সম্মেলন বা ব্যবসায়িক কাজ।

পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব :

বই পড়ে যতটুকু শেখা যায়, নিজের চোখে দেখে তার চেয়ে বেশি শেখা যায়। পর্যটনের মাধ্যমে মানুষ তার শিকড় খুঁজে নেয়। মানুষ, প্রকৃতি ও আদিবাসীদের সংস্কৃতি সম্পর্কেও পর্যটনের মাধ্যমে জানা যায়। তাই পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য :

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এখানে আছে সবুজ মাঠ, বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন, সমুদ্র সৈকত, পাহাড়-পর্বত ও নদীনালা। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্যও মনোরম। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু ও প্রাচীন সভ্যতার কারণে বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ স্বপ্নের দেশ।

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান :

বান্দরবান, রাঙামাটি, কুয়াকাটা, সুন্দরবন ও সাগরদীঘি ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত প্রায় ৭৫ মাইল বিস্তৃত। একদিকে বিশাল জলরাশি, অন্যদিকে সুউচ্চ পাহাড়। পাহাড়পুর, মহাস্থানগড় ও ময়নামতিতে আছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। চাষী, জেলে ও উপজাতিদের জীবনধারাও পর্যটকদের মন কাড়ে।

পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা :

আগে পর্যটকদের জন্য তেমন সুযোগ-সুবিধা ছিল না। সম্প্রতি সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হোটেল-মোটেল তৈরি হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কমমূল্যে রিজার্ভেশন সুবিধা দিচ্ছে। যাতায়াতের জন্য নানা যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন:

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন গঠিত হয়। এর প্রধান কাজ পর্যটকদের সমস্যার সমাধান করা এবং সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া। অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করাও এর লক্ষ্য।

জাতীয় পর্যটন নীতিমালা :

১৯৯২ সালে প্রথম জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ঘোষিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ানো, স্বল্প খরচে সবার জন্য পর্যটন সুবিধা সৃষ্টি করা এবং পর্যটন সম্পদ রক্ষা করা। বিদেশে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা ও বেসরকারি পুঁজির জন্য বিনিয়োগক্ষেত্র খোলাও এর লক্ষ্য।

অর্থনৈতিক সুবিধা :

পর্যটনকে বলা হয় অদৃশ্য রপ্তানি পণ্য। এর আয় সীমিত নয়। এখানে চাকরি, বিনিয়োগ ও আয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। বেকারত্ব যেখানে প্রধান সমস্যা, সেখানে স্বল্প পুঁজিতে পর্যটনকে কাজে লাগালে ব্যাপক কর্মসংস্থান সম্ভব।

পর্যটন শিল্পের সমস্যা:

এ শিল্পের তিনটি মৌলিক সমস্যা হলো পর্যটক আকর্ষণ, পরিবহন এবং খাদ্য ও বাসস্থান। এ ছাড়া রাস্তাঘাট সংকীর্ণ ও পুরোনো, উন্নত হোটেলের অভাবও আছে। হরতাল ও ধর্মঘটের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তার অভাবও বড় সমস্যা।

করণীয় :

সমস্যার সমাধান হঠাৎ সম্ভব নয়, তবে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। নীতিমালা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে এবং হোটেল-মোটেল তৈরি করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গাইডদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে হবে।

উপসংহার :

বাংলাদেশ পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে পর্যটকদের আকর্ষণের অনেক উপাদান আছে, তাই সম্ভাবনাও প্রচুর। সমস্যার সমাধান করতে পারলে পর্যটন শিল্পের আয় দিয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।


Author

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment