ইসলামে প্রচলিত আকাইদ ও যাবতীয় আহকামের সম্মিলিত নাম হচ্ছে শরিয়াহ। আল্লাহ যেসব বিধান দান করেছেন তার প্রতিটির পেছনে বিশেষ হেকমত ও উদ্দেশ্য রয়েছে। আর সে সার্বজনীন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নতুন নতুন সৃষ্ট ঘটনাবলির সমাধানমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই মাকাসিদুশ শরীয়াহ (مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ)এর উদ্দেশ্য।
মাকাসিদুশ শরীয়াহ (مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ) পরিচিতি :
ক. আভিধানিক অর্থ : مَقَاصِدٌ শব্দটি مَقْصَدٌ-এর বহুবচন। এটি اِسْمُ ظَرْفٍ-এর جَمْعٌ-এর সিগাহ। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে—
১. الْغَايَةُ তথা গন্তব্য। ২. الْهَدَفُ তথা লক্ষ্য। ৩. الْمَطْلُوْبُ তথা উদ্দেশ্য।
পক্ষান্তরে الشَّرِيْعَةُ শব্দটি الشَّرْعُ মাসদার থেকে গঠিত। এর অর্থ হচ্ছে—
ক. الطَّرِيْقَةُ তথা পথ। খ. الْأُسْلُوْبُ তথা পদ্ধতি। গ. الْمِنْهَاجُ তথা নিয়ম। ঘ. الْقَانُوْنُ তথা নিয়ম-নীতি। ঙ. الْحُكْمُ তথা বিধান ইত্যাদি।
খ. পারিভাষিক সংজ্ঞা : ১. ড. আবদুল ওহাব বলেন—
مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ فِيْ اِصْطِلَاحِ الْأُصُوْلِيِّيْنَ هِيَ مَا يُسَمَّى لَدَيْهِمْ بِالْمُنَاسِبِ وَهُوَ إِحْدَى الطُّرُقِ الَّتِيْ يُتَعَرَّفُ بِهَا عَلَى عِلَّةِ الْحُكْمِ
অর্থাৎ, উসূল শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ হলো ঐসব বিষয় যেগুলোকে الْمُنَاسِبُ তথা সমীচীন বিষয় নাম দেয়া হয়। এটি এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে حُكْمٌ-এর عِلَّةٌ জানা যায়।
২. আল্লামা বাযযাবি (র.) বলেন—
وَالْمُنَاسِبُ مَا يَجْلِبُ لِلْإِنْسَانِ نَفْعًا أَوْ يَدْفَعُ عَنْهُ ضَرُرًا
অর্থাৎ, مُنَاسِبٌ হলো ঐ বিষয় যা মানব কল্যাণ সাধন বা তার ক্ষতি প্রতিরোধ করে।
৩. ইবনে সুবাক (র.) বলেন—
مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ هُوَ مَا يَجْلِبُ لِلْإِنْسَانِ نَفْعًا أَوْ يَدْفَعُ عَنْهُ ضَرُرًا
৪. আবদুল ওহাব খাল্লাফ (র.) বলেন—
هُوَ تَحْقِيْقُ مَصَالِحِ النَّاسِ بِكَفَالَةِ ضَرُوْرِيَّاتِهِمْ وَتَوْفِيْرِ حَاجَاتِهِمْ
সম্পর্কিত পোস্ট : মাসলাহা(مَصْلَحَةٌ) অর্থ কি?কাকে বলে কত প্রকার বিস্তারিত
মাকাসিদুশ শরীয়াহ (مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ)এর প্রকারভেদ :
শায়খ আবু যুহরা (র.) তার أُصُوْلُ الْفِقْهِ গ্রন্থে বলেন, শরিয়তের উদ্দেশ্য তিনটি। যথা—
১. تَهْذِيْبُ الْفَرْدِ — ব্যক্তিকে সভ্য করা।
২. إِقَامَةُ الْعَدْلِ فِي الْمُجْتَمَعِ الْإِسْلَامِيِّ — ইসলামি সমাজে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা।
৩. تَأْسِيْسُ الْمُصْلَحَةِ — মানব কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা।
১. تَهْذِيْبُ الْفَرْدِ (ব্যক্তিকে সভ্য করা) : মানুষ মানুষের কল্যাণে ভূমিকা পালন করবে এবং তার দ্বারা কারো ক্ষতি সাধিত হবে না। এজন্য মানুষের মাঝে সভ্যতা, সংস্কৃতি সৃষ্টির লক্ষ্যে ইবাদতের বিধান রাখা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন— إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ। নামাযের মতো রোযা, হজ্জ ও যাকাত সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
২. إِقَامَةُ الْعَدْلِ فِي الْمُجْتَمَعِ الْإِسْلَامِيِّ (ইসলামি সমাজে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা): মহান আল্লাহ ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানান। যেমন তার বাণী— اِعْدِلُوْا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى।
৩. تَأْسِيْسُ الْمُصْلَحَةِ (মানব কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা): ইসলামি শরিয়তের প্রতিটি বিধান মানব কল্যাণের জন্য প্রদান করা হয়েছে।
মাকাসিদুশ শরীয়াহ (مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ)আরেকটি শ্রেণিবিভাগ:
ড. ইউসুফ হামেদা বলেন, مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ দুপ্রকার। যথা—
১. أَصْلِيٌّ তথা মৌলিক উদ্দেশ্য এবং ২. تَبَعِيٌّ তথা মৌলিক উদ্দেশ্যের অনুগামী উদ্দেশ্য।
সম্পর্কিত পোস্ট : إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ মাসয়ালাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা
উদাহরণ : বিবাহের মূল উদ্দেশ্য সন্তান লাভ করা, আর অনুগামী উদ্দেশ্য হলো সম্ভ্রম ও আব্রু রক্ষা করা এবং নৈতিক চরিত্রে নিষ্কলুষ রাখা।
বান্দার করণীয় দিক বিবেচনায় مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ আবার তিন প্রকার। যথা—
১. الضَّرُوْرِيَّاتُ
২. الْحَاجِيَّاتُ এবং
৩. التَّحْسِيْنِيَّاتُ
১. الضَّرُوْرِيَّاتُ (বাধ্য-বাধকতামূলক বিষয়) : মানুষের জীবন সুশৃঙ্খল রাখার জন্য কতগুলো বিষয় ইসলামি শরিয়ত অপরিহার্য বিষয়রূপে মানুষের ওপর আরোপ করেছে। এ প্রসঙ্গে আবদুল ওহাব খাল্লাফ তার أُصُوْلُ الْفِقْهِ গ্রন্থে বলেন—
বাধ্য-বাধকতামূলক বিষয় বলতে এমন বিষয় উদ্দেশ্য, মানব জীবনের অস্তিত্ব যার ওপর নির্ভরশীল এবং যা মানব কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। যদি এটি না থাকে তাহলে জীবনযাপনে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। الضَّرُوْرِيَّاتٌ হিসেবে এটা পাঁচ প্রকার। যথা— ক. حِفْظُ الدِّيْنِ খ. حِفْظُ النَّفْسِ গ. حِفْظُ الْعَقْلِ ঘ. حِفْظُ الْعِرْضِ এবং ঙ. حِفْظُ الْمَالِ।
ক. حِفْظُ الدِّيْنِ (দীনের হেফাজত করা) : ঈমান, ইবাদত, জেহাদ ও শরিয়তের যাবতীয় বিধান দীনের মধ্যে শামিল। الْمَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ-এর অন্যতম প্রধান বিষয় হলো দীনের হেফাজতকরণ। ফেতনা, গোমরাহি ও বিশৃঙ্খলা থেকে দীনি বিষয়সমূহ হেফাজত করা এর পূর্বশর্ত।
খ. حِفْظُ النَّفْسِ (বান্দার জীবনের হেফাজত) : ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের জীবন ও জীবনপ্রবাহ রক্ষা করা। শরিয়ত মানুষের জন্য বিবাহ নীতি প্রদান করেছেন যেন বংশ রক্ষা পায়। মানুষকে কথায়, কর্মে ও চিন্তায় স্বাধীনতা প্রদান করে তাদের জীবন রক্ষার জন্য বিভিন্ন দণ্ডবিধি ঘোষণা করেছে। যেমন— কেসাস, হাত কাটা ইত্যাদি আইন প্রয়োগ করেছে।
গ. حِفْظُ الْعَقْلِ (জ্ঞান-বুদ্ধির সংরক্ষণ) : আকল ব্যতীত মানুষ মূল্যহীন। তাই আকলকে হেফাজত করার জন্য ইসলামি শরিয়তে মদ ও নেশা জাতীয় দ্রব্য হারাম করা হয়েছে।
ঘ. حِفْظُ الْعِرْضِ (সম্ভ্রম রক্ষা) : মানুষের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য ইসলামে যেনা ও মিথ্যা অপবাদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
ঙ. حِفْظُ الْمَالِ (সম্পদ রক্ষা) : মানুষের সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সম্পদ ব্যতীত জীবন অচল। সম্পদকেন্দ্রিক নীতিমালা স্বরূপ ক্রয়-বিক্রয় ও মুদারাবা নীতি চালু করা হয়েছে। সম্পদ রক্ষার জন্য চুরির শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতারণা হারাম করা হয়েছে। তাই সম্পদ ছিনতাই করা নিষেধ করা হয়েছে। কেউ কেউ حِفْظُ الْعِرْضِ-এর স্থলে حِفْظُ النَّسَلِ তথা বংশ রক্ষাকে স্থান দিয়েছেন।
২. الْحَاجِيَّاتٌ (প্রয়োজনীয় বিষয়) : বাধ্য-বাধকতামূলক নয়, তবে প্রয়োজনীয় এমন বিষয়ের বিধান প্রদান করা ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য। এ প্রকারের ক্ষেত্রে دَفْعُ مَضَرَّةٍ তথা ক্ষতি প্রতিরোধ করা প্রধান কাজ। যেমন— মদ হারাম করা, গাইরে মাহরাম মহিলাদের প্রতি তাকানো নিষেধ করা ইত্যাদি।
৩. التَّحْسِيْنِيَّاتٌ (সৌন্দর্যবর্ধক বিষয়) : এগুলোকে كَمَالَاتٌ-ও বলা হয়। এগুলো দ্বারা যেসব বিষয় উদ্দেশ্য, তা الضَّرُوْرِيَّاتٌ-এর পাঁচটি বিষয়কে পূর্ণতা দান করে। যেমন— নামাযের জন্য তাহারাত অর্জন, কাপড় পরিধান করা ইত্যাদি।
مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ ও أُصُوْلُ الْفِقْهِ এর মধ্যে সম্পর্ক :
أُصُوْلُ الْفِقْهِ এর সাথে مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নিচে এর কারণ গুলো উল্লেখ করা হলো –
১. مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ একটি উসূলশাস্ত্র : مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ অন্যান্য উসূলের মতো একটি উসূলশাস্ত্র। বিভিন্ন উসূল-মূলনীতির মাধ্যমে যেভাবে বিধান বের করা হয় তদ্রূপ مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ দ্বারাও বিধান বের করা হয়।
২. উসূল শরয়ি বিধান থেকে আবিষ্কৃত : ফিকহের জন্য যে নীতিমালা তৈরি হয়েছে তা নব সৃষ্ট কিছু নয়; বরং বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে এসব নীতি বিদ্যমান। কাজেই শরিয়তের বিধানাবলির উদ্দেশ্য অবগত না হলে উসূল বের করা সম্ভব নয়।
৩. أُصُوْلُ الْفِقْهِ-এর ভিত্তি : مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ-কে উসূলুল ফিকহের ভিত্তি বলা যায়। কেননা, مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ জানা না থাকলে উসূল বের করা সম্ভব নয়।
৪. মুজতাহিদের জন্য مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ-এর গুরুত্ব: মুজতাহিদ ফিকহ সৃষ্টির জন্য যেভাবে أُصُوْلٌ-এর প্রতি মুখাপেক্ষী তদ্রূপ مَقَاصِدٌ-এর প্রতিও মুখাপেক্ষী। কেননা, مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ অনুধাবন করার পর উসূল বোঝা সহজ।
৫. উসূলুল ফিকহ ও مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ অভিন্ন বিষয় : ফিকহের মূল বিষয় আল-কুরআন ও আল-হাদিস। আর مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ এ দুটির গূঢ় রহস্যকে নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, أُصُوْلُ الْفِقْهِ ও مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ এক ও অভিন্ন।
নকলি ও আকলি দলিল দ্বারা مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ-এর প্রমাণ:
مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ যে শরিয়তের একটি দলিল তার প্রমাণ আল-কুরআন ও হাদিসে বিদ্যমান। যথা—
১. আল্লাহ তায়ালা রাসূল প্রেরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইরশাদ করেন—
١. رُسُلًا مُبَشِّرِيْنَ وَمُنْذِرِيْنَ لِئَلَّا يَكُوْنَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ
٢. وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِيْنَ
২. মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
وَهُوَ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِيْ سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا
৩. অযুর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
مَا يُرِيْدُ اللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيْدُ أَنْ يُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ
৪. সালাতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
৫. সাওমের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ
৬. হজ্জের উদ্দেশ্য বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
لِيَشْهَدُوْا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوْا اسْمَ اللهِ عَلَيْهِ فِيْ أَيَّامٍ مَعْلُوْمَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيْمَةِ الْأَنْعَامِ
৭. জিহাদের উদ্দেশ্য বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
١. أُذِنَ لِلَّذِيْنَ يُقَاتَلُوْنَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوْا
٢. وَقَاتِلُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ الَّذِيْنَ يُقَاتِلُوْنَكُمْ
৮. কিসাসের উদ্দেশ্য বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
وَلَكُمْ فِيْ الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ
উপরিউক্ত আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, শরয়ি বিধানের ব্যাপক উদ্দেশ্য রয়েছে।
আকলি দলিল দ্বারা مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ-এর প্রমাণ
১। ইসলামের অসম্পূর্ণতা রোধকরণ : রাসূল (স.)-এর অবর্তমানে পৃথিবীতে এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে যার সমাধান কুরআন ও হাদিসের ভাষ্যে পাওয়া যাইনি। যদি مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ-এর ভিত্তিতে এসব ঘটনার সমাধান না করা হতো তাহলে ইসলাম অসম্পূর্ণ বলে ধারণা সৃষ্টি হতো। অথচ ইসলামের সম্পূর্ণতার ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে।
২। আধুনিক বিষয়াবলির সমাধান : আধুনিক বিষয়ে যে সকল নিত্যনতুন ঘটনা ঘটে চলেছে তার কোনো দৃষ্টান্ত অতীত ইতিহাসে নেই। সেক্ষেত্রে مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ অনুযায়ী আমল করা না হলে এ সব ক্ষেত্রে ইসলামি দিকনির্দেশনা অবর্তমান থেকে যাবে।
৩। مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ একটি অনুকূলীয় বিষয় : যেহেতু مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ শরিয়তের নিদর্শনস্বরূপ যা কুরআন ও সুন্নাহর গভীরে প্রোথিত রয়েছে। মুজতাহিদগণ নব সৃষ্ট ঘটনার সমাধান করলে তা শরিয়তের অনুকূলীয় বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।
مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ অস্বীকারকারীদের দলিল : আশায়েরা ও যাহেরি সম্প্রদায়ের মতে, আহকাম শরিয়ত মাকসাদ বা উদ্দেশ্য বিশিষ্ট হওয়া আবশ্যক নয়। কেননা, আল্লাহ তায়ালা কোনো مَصْلَحَةٌ বা مَقْصَدٌ ব্যতীতই বিধান ফরয করতে পারেন। তাদের বর্ণিত দলিল হলো—
১. مَقْصَدٌ থাকা শর্ত করা হলে আল্লাহ তায়ালার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা আবশ্যক হয়।
২. আল্লাহ তায়ালার স্বাধীনতা খর্ব হয়।
৩. আল্লাহ তায়ালার মাকসাদ জানা বান্দার পক্ষে সম্ভব নয়।
مَقَاصِدُ الشَّرِيْعَةِ অস্বীকারকারীদের দলিলের প্রত্যুত্তর
১. مَقْصَدٌ শর্ত হিসেবে নয়; বরং আল্লাহ তায়ালার স্বভাবের দৃষ্টিতে مَقْصَدٌ-এর উপস্থিতিতে নিশ্চিত হয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা কোনো কাজ অনর্থক করেন না।
২. مَقْصَدٌ থাকলে আল্লাহ তায়ালার ইখতিয়ার বিশিষ্ট হওয়ার দাবি যথার্থ নয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালার ইখতিয়ারের কারণেই বিধান নাযিল হয়।
৩. আল্লাহ তায়ালার প্রকৃত মাকসাদ না জানা গেলে নসের বর্ণনায় যা উল্লেখ থাকে সে অনুযায়ী মাকসাদ বের করার অধিকার আল্লাহ তায়ালা মুজতাহিদদেরকে দান করেছেন।