ভাবসম্প্রসারণ: ধনের মানুষ অপেক্ষা মনের মানুষই বড়

৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণির জন্য ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: যার ধন-সম্পদ আছে সে বড় নয়, তার চেয়ে যার মন আছে সেই বড়, সেই মহান।

সম্প্রসারিত ভাব : পার্থিব ধন ঐশ্বর্যের অধিকারী ব্যক্তি সমাজের সাধারণ মানুষের ওপর সাময়িক আধিপত্য লাভ করতে পারে’ বটে, কিন্তু তা কখনো তাদের অন্তরে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। তার মূর্খতা নিয়ে আড়ালে থেকে সবাই তাকে ঠাট্টা বিদ্রূপ করে এবং তার মন্দ কর্মের জন্য অভিশাপ দিয়ে থাকে। তাকে মানুষ না বলে, পশু বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। কিন্তু যারা জ্ঞানী, প্রতিভাবান ও পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী তাদের অন্তর অপূর্ব ভক্তিরসে সিক্ত হয়ে যায়। কেননা এরূপ মহৎ লোকদের কর্মফল ভোগ করে বিশ্ব মানব সততই ধন্য হয়ে থাকে। তাইতো তাঁদের মৃত্যু নেই। পক্ষান্তরে কেউ যদি পার্থিব ধন ঐশ্বর্যের অধিকারী হয়েও তা মানব কল্যাণে ব্যয় না করে, তাহলে তাকে বলতে হবে সে নিতান্তই ছোট মনের অধিকারী। তার দ্বারা সমাজ, দেশ ও জাতির কোনো কল্যাণ হতে পারে না। তার জীবদ্দশায় যেমন তাকে কেউ ভালোবাসে না, তেমনি মৃত্যুর পরও কেউ তাকে স্মরণ করে না। সুতরাং ধনসম্পত্তি, অর্থকড়ি যার আছে, সে বড় নয়। তার চেয়ে বরং যে বড় মনের অধিকারী সেই আসল মানুষ। বড় মনের মানুষ ভালোবাসে উদারভাবে, সুন্দরভাবে এবং সে ভালোবাসা নির্মল ও পবিত্র।

মন্তব্য : মনুষ্যত্বই মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পার্থিব সম্পদ মানুষের জীবনে প্রয়োজনীয় হলেও তা মনুষ্যত্বের চেয়ে কিছুতেই শ্রেষ্ঠ নয়।

SSC (৯ম-১০ম শ্রেণি) পরীক্ষার জন্য ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: ধন থাকলেই মানুষ বড় হয় না। যার মন উদার ও প্রশস্ত, সে-ই প্রকৃত বড়।

সম্প্রসারিত ভাব: ধনীর থাকে ধন। ধন ব্যবহৃত হয় প্রয়োজন মিটানোর কাজে। ধন এবং ধনসম্পন্ন ব্যক্তি থাকে তার নিজের গণ্ডিতে। অন্যদের সুখ-দুঃখের সঙ্গে এই ধন আর ধনী ব্যক্তির সম্পর্ক থাকে না বা থাকলেও তা থাকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের। পক্ষান্তরে, মনের মানুষের যা থাকে তা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ-মন। মনে থাকে তার মমত্ববোধ। অন্যদেরকেও সে নিজের মতো মনে করে। মানুষের জীবনে সুখের চেয়ে দুঃখই বেশি। এই দুঃখের সময় যারা সমদুঃখী হয়, কাতর হয়, তারাই দুঃখীকে সান্ত্বনা দিতে পারে, আশ্রয় দিতে পারে। সে সান্ত্বনা দুঃখীর দুঃখ যন্ত্রণা উপশমে সহায়ক হয়। আর তাই এ ব্যক্তিই তার মনের কাছের মানুষ হয়ে ওঠে। তার সম্পর্কে মনে বড় ধারণা ও শ্রদ্ধা গড়ে ওঠে। পৃথিবীতে সম্পদশালী মানুষের অভাব নেই। ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তিগণ মানুষের ওপর বাইরের প্রভাব বিস্তার করলেও তাদের মনের রাজ্যে প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। মরার সাথে সাথে তাদের নামেরও মৃত্যু হয়।

মন্তব্য: আমাদের উচিত ধনী হওয়ার চেষ্টার চেয়ে সকলের মনের মানুষ হওয়ার জন্যে চেষ্টা করা।

HSC (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) পরীক্ষার জন্য ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: সম্পদশালী হলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। যথার্থ মানুষ হতে হলে থাকতে হবে মনের উদারতা ও বিশ্বাস।

সম্প্রসারিত ভাব: মানবজীবনে ধনসম্পদের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু ধনসম্পদের প্রকৃত গুরুত্ব নির্ভর করে মানবকল্যাণে ও সামাজিক অগ্রগতিতে তা কাজে লাগানোর ওপর। বিপুল ঐশ্বর্যের অধিকারী ব্যক্তির যদি সংকীর্ণ মন থাকে সে যদি কেবল সামাজিক আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত থাকে তবে তার ঐশ্বর্যের কোনো মূল্য নেই জনসাধারণের মাঝে। তাদের দ্বারা সমাজের কোনো কল্যাণ সাধিত হয় না বলে তারা সাধারণ মানুষের হৃদয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না। তাদের মৃত্যুর সঙ্গে ঐশ্বর্যের পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রচলিত ধারণা অনুসারে যে ব্যক্তি ধনবান সে বড় বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু ধনসম্পদ বেশি হওয়ার সঙ্গে প্রকৃত বড় হওয়ার তেমন সম্পর্ক নেই। যার মন বড় সেই মহান বা বড় বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ মন যার প্রশস্ত, উদার, মহৎ গুণাবলিতে সমৃদ্ধ পরোপকারে মত্ত সেই যথার্থ বড় মানুষ। মানুষ মহৎ গুণ দিয়ে জীবনকে অলংকৃত ও মহিমান্বিত করে তোলে। অর্থসম্পদ মানুষকে ধনী ও সম্পদশালী করে তুলতে পারে কিন্তু মর্যাদাবান ও মনুষ্যত্বের অধিকারী করতে পারে না। তার জন্য প্রয়োজন পরোপকারী মহৎ মন। এই অমূল্য সম্পদ পরোপকার ও নিঃস্বার্থ শ্রম দ্বারা অর্জন করে নিতে হয়। ঐশ্বর্যবান সংকীর্ণ মনের ব্যক্তিদের দ্বারা সমাজের কল্যাণ ও অগ্রগতি সাধিত হয় না। মৃত্যুর সাথে সাথে এই ব্যক্তিদের নামও মানুষের মন থেকে মুছে যায়। কিন্তু পরোপকারী মানুষ চিরদিন জনগণের হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে অম্লান হয়ে থাকেন। যুগ যুগ ধরে মানুষ তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। তারা মরেও অমর হয়ে থাকেন। পবিত্র হাদিসে আছে- “ধন থাকলেই ধনী হওয়া যায় না। ঐ ব্যক্তি ধনী যার মন প্রশস্ত।” যাদের অর্থ নেই, অথচ মনের দিক থেকে উদার ও বড় তাদের সামাজিক মর্যাদা অনেক বেশি। তাই মানুষের মহত্ত্ব বিচারে ধন নয়, মনের বিশালতা দেখতে হবে।

মন্তব্য: অর্থসম্পদ থাকলে ধনী হওয়া যায় কিন্তু বড় মনের মানুষ হওয়া যায় না। অর্থাৎ মন যার প্রশস্ত, উদার ও মহৎ গুণাবলিতে সমৃদ্ধ সেই বড় মনের মানুষ।


শিক্ষাগার

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে লাখো শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment