ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ করার নিয়ম ও লক্ষণীয় (বাংলা ২য় পত্র)

এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর করাই অনুবাদ। তবে এক ভাষার শব্দের স্থলে অন্য ভাষার শব্দ বসিয়ে দিলেই অনুবাদ হয় না। সুন্দর ও যথার্থ অনুবাদ করতে হলে সে ভাষার গতিময়তা, গঠনরীতি, পদবিন্যাস ও বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে বিশেষ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

অনুবাদ এর প্রকারভেদ :

অনুবাদ মূলত দু’ প্রকার। যথা-

১. ভাবানুবাদ ও

২. আক্ষরিক অনুবাদ।

১. ভাবানুবাদ: যে ধরনের অনুবাদে মূল বিষয় ঠিক রেখে বা মূলভাষার ভাব যথাযথ রেখে অপর ভাষার প্রয়োজনীয় শব্দে অনুবাদ করা হয়, তাকে ভাবানুবাদ বলে। ভাবানুবাদের অপর নাম ভাবগত অনুবাদ।

২. আক্ষরিক অনুবাদ : যে ধরনের অনুবাদে মূল বিষয় পুরোপুরিভাবে অনুসরণ ও অনুকরণ করা হয়, বা মূল ভাষার প্রত্যেকটি শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহার করে যে অনুবাদ করা হয়, তাকে আক্ষরিক অনুবাদ বলে। আক্ষরিক অনুবাদের অপর নাম শাব্দিক অনুবাদ।

অনুবাদের সময় লক্ষণীয়

অনুবাদের সময় যেসব বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে তা হলো-

ক. অনুবাদ কেমন হবে তা নির্ভর করে অনুবাদের বক্তব্য বিষয়ের ওপর।

খ. অনুবাদ হবে মৌলিক।

গ. এর ভাষা হবে সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল।

ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ করার নিয়ম :

ক. অনুবাদের পূর্বে উদ্ধৃত বিষয়টি কয়েকবার পড়তে হবে।

খ. অনুবাদ করার সময় বাক্যের ভাবের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে।

গ. শব্দ ধরে অনুবাদ করলে চলবে না।

ঘ. সবসময় ভাবকে গুরুত্ব দিয়ে মূল বিষয়ের দিকে খেয়াল রেখে অনুবাদ করতে হবে।

ঙ. There, it, the, is, am, are, a, an ইত্যাদি শব্দের অনুবাদ বাংলায় দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

চ. ভাষার মাধুর্যের দিকে খেয়াল রেখে অনুবাদ করতে হবে।

ছ. ভাষার সৌন্দর্য রক্ষা করতে হবে।

অনুবাদের সময় আরো যেসব বিষয় লক্ষ রাখতে হবে তা নিচে উপস্থাপিত হলো-

১. একই শব্দের বিভিন্ন অর্থ থাকে, সেক্ষেত্রে উপযুক্ত শব্দটিকে যথাযথভাবে নির্বাচন করে ব্যবহার করতে হবে। যেমন- Give an account of your college. আমরা জানি, account শব্দটিকে Noun ও Verb হিসেবে ব্যবহার করা যায়। Account যদি Verb হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাহলে এর অর্থ হবে- হিসাব করা, বিবেচনা করা, দায়ী হওয়া ইত্যাদি। আলোচ্য Sentence-এ account হলো Noun এবং Noun হিসেবে এর যে অর্থটি আমরা গ্রহণ করতে পারি তা হলো বিবরণ, অর্থাৎ Sentence-টির অর্থ দাঁড়ায়- তোমার কলেজের একটি বিবরণ দাও।

২. অনুবাদ করার সময় সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। যেমন-। am not reading but playing games in computer now. এই Sentence-টির অর্থ সাধু ভাষায় অথবা চলিত ভাষায় লিখতে হবে। তবে চলিত ভাষাই অধিক গ্রহণযোগ্য। এক্ষেত্রে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটানো যাবে না। অর্থাৎ ‘আমি এখন পড়িতেছি না; বরং কম্পিউটারে গেইম খেলছি’- লেখা যাবে না। লিখতে হবে ‘আমি এখন পড়ছি না; বরং কম্পিউটারে গেইম খেলছি।’

৩. কোনো শব্দের অর্থ জানা না থাকলে বাক্যের ভাবানুসারে অনুবাদ করা যেতে পারে। যেমন- Rice is our staple food. Noun ও Adjective হিসেবে staple-এর সম্ভাব্য অর্থগুলো হলো- উৎপন্ন দ্রব্য, কাঁচামাল, প্রধান উপাদান, আঁশ, সুতা এবং প্রধান। অর্থ জানা না থাকলে Sentence-টির Context (প্রসঙ্গ) অনুসারে আমরা বলতে পারি যে, এখানে staple-এর অর্থ প্রধান। তাহলে বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায় ‘ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য।’

৪. সরলতা এবং স্পষ্টতা ভাষার শ্রেষ্ঠ গুণ। তাই অনুবাদের ভাষা যাতে কৃত্রিম ও আড়ষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। যেমন- He teaches us.-এই Sentence-টির অর্থ ‘তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দেন’ লিখলে ভাষাটা কৃত্রিম বা বানানো বলে মনে হয়। কিন্তু আমরা যদি লিখি ‘তিনি আমাদেরকে পড়ান’- তাহলে ভাষাটিকে অনেক সরল ও প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক বলে মনে হয়।

৫. সঠিক পারিভাষিক শব্দ জানা না থাকলে, এমন প্রতিশব্দ ব্যবহার করতে হবে যাতে মূল শব্দটির অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকে। যেমন-‘Director’ ও ‘Laboratory’ শব্দ দুটির পারিভাষিক অর্থ হলো যথাক্রমে ‘অধিকর্তা’ ও ‘প্রয়োগশালা’। তবে এই পারিভাষিক অর্থগুলো জানা না থাকলেও আমরা এগুলোর পরিবর্তে যথাক্রমে ‘পরিচালক’ ও ‘গবেষণাগার’ ব্যবহার করেও মূল শব্দগুলোর অর্থ পরিস্ফুট করতে পারি।

৬. ইংরেজি প্রবাদ বাক্যের মূল অর্থটি আত্মস্থ করে বাংলা ভাষার কোন প্রবাদটি ওই বাক্যের নিকটতম ভাবার্থ প্রদান করতে পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। যেমন- Black will take no other hue. (কয়লা ধুলে ময়লা যায় না।)

৭. ইংরেজিতে সকর্মক ক্রিয়ার পর কর্ম বসে, কিন্তু বাংলায় ক্রিয়ার পূর্বে কর্ম বসে। যেমন-। have a computer. (আমার আছে একটি কম্পিউটার)। কিন্তু বাংলায় অনুবাদ হবে- ‘আমার একটি কম্পিউটার আছে।’ সুতরাং বাংলার নিজস্ব গঠনরীতি অনুসারে বাক্য গঠিত হবে।

৮. ইংরেজিতে সত্তাবাচক ক্রিয়াপদ থাকে, কিন্তু বাংলায় তা থাকে না। যেমন- He is my brother, বাংলায়- সে আমার ভাই। এসব ক্ষেত্রে is-এর প্রতিশব্দ (হয়) বাংলায় উহ্য থাকে।

৯. ইংরেজি Introductory ‘there’-এর বাংলায় কোনো অনুবাদ নেই। There is a mad man in our town. (সেখানে হয় একটা পাগল আমাদের শহরে।) এভাবে না হয়ে বাংলায় হবে- আমাদের শহরে একটা পাগল আছে।

১০. তুমি, তোমরা, আপনি, তুই, আপনারা- এর প্রত্যেকটির প্রতিশব্দ ইংরেজিতে নেই, ইংরেজিতে you দিয়েই এগুলো বোঝানো হয়। বাংলায় ভাব ও অবস্থা অনুসারে you-এর বদলে তুই, তুমি, তোমরা, আপনি ইত্যাদি ব্যবহৃত হবে। যেমন-You must have read good books. (এখানে ‘You’ তুমি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)- তোমার অবশ্যই ভালো বই পড়া উচিত।

১১. অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজির বহুবচন বাংলায় বর্জন করতে হবে। যেমন- Grapes are sour. অনুবাদে- ‘আঙ্গুরগুলো হয় টক’ না লিখে লিখতে হবে ‘আঙ্গুর টক’। তবে নির্দিষ্ট করে বোঝালে বাংলায় বহুবচন ব্যবহৃত হয়। যেমন-Those are my books.-ওই বইগুলো আমার।

১২. ইংরেজি জটিল বাক্যকে বাংলায় খণ্ড খণ্ড করে সরল বাক্যে পরিণত করতে হয়।

১৩. ইংরেজিতে পরপর দুটি বহুবচন পদ ব্যবহৃত হতে পারে, কিন্তু বাংলায় একই বাক্যে দুটি বহুবচন ব্যবহৃত হলে বাক্য ভুল হবে। যেমন-Many students have come. অর্থাৎ, ‘অনেক ছাত্ররা এসেছে।’ এভাবে না বলে বাংলায় বলতে হবে- ‘অনেক ছাত্র এসেছে।’

১৪. Who- এর পরে Singular Verb থাকলে who-এর বাংলা ‘কে’ এবং Plural Verb থাকলে ‘কারা’ ব্যবহৃত হবে। যেমন-Who has broken the chair?-কে চেয়ারটি ভেঙেছে? Who have broken the chair?- কারা চেয়ারটি ভেঙেছে? বা, কে কে চেয়ারটি ভেঙেছে?

১৫. ইংরেজি শর্তবাচক বাক্যের অনুবাদে যদি/তবে ব্যবহার না করেও বাংলা বাক্য তৈরি করা যায়। যেমন-If you want to go, do so.- যেতে চাইলে যাও।

১৬. ইংরেজি Impersonal pronoun-কে বাংলায় পরোক্ষভাবে অনুবাদ করতে হয়। যেমন- One should love one’s parents-এর ক্ষেত্রে লিখতে হবে- ‘মা-বাবাকে ভালোবাসা উচিত।’

১৭. মূল রচনার Phrase, Clause ও Compound Word-কে বাংলায় সমাসবদ্ধ পদের সাহায্যে অনুবাদ করা দরকার।

১৮. নামের অনুবাদকালে মূল উচ্চারণ ঠিক রেখে বাংলা অক্ষরে তা লেখার নিয়ম। কিন্তু ইংরেজি ও বাংলা উচ্চারণ এক না হলে অনুবাদে বাংলা উচ্চারণই ব্যবহার করতে হবে। যেমন- Chittagong- চট্টগ্রাম, (চাটগাঁ বা চিটাগং নয়); Calcutta- কলকাতা ক্যালকাট্টা নয়)।

১৯. কিছু কিছু ইংরেজি নামের বাংলা অনুবাদে বাংলায় প্রচলিত নাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- Egypt- মিসর; India- ভারত; United states- যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি।

২০. কিছু ইংরেজি শব্দ বাংলায় প্রচলিত নিয়মে হবে। যেমন- Doctor- ডাক্তার; Hospital- হাসপাতাল ইত্যাদি।


Author

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে লাখো শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment