প্রশ্ন : তোমার স্কুল / কলেজ / মাদরাসার অধ্যক্ষের বিদায় উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপনের জন্য শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা ভাষণ তৈরি কর।
মাননীয় সভাপতি, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলী ও সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ
আমাদের স্কুল/কলেজ/মাদরাসার অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু উস্তাজুল আসাতেজা জনাব মাওলানা ইসমাইল সাহেবের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কিছু বলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।
শিক্ষকতার মহান ব্রত নিয়ে আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু মাওলানা ইসমাইল সাহেব পদার্পণ করেছিলেন এ বিদ্যাপীঠে। সুদীর্ঘকাল এর কর্ণধার হিসেবে সগৌরবে দায়িত্ব পালনের পর আজ বেজে উঠেছে তাঁর বিদায়ের বেদনার সুর। বেদনাময় এই লগ্নে আমাদের অন্তরে কেবলই জেগে উঠছে বিষাদের বাণী-
“যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।”
আরো শিখুন : বিদায়ী ছাত্রদের পক্ষ থেকে বিদায়ী ভাষণ।স্কুল/কলেজ/মাদ্রাসা
সুপ্রিয় সুধীবৃন্দ,
আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা তাঁর মতো একজন কর্মঠ, উদারচিত্ত, সুদক্ষ, প্রজ্ঞাবান ও একজন আদর্শবাদী শিক্ষকের পদপ্রান্তে বসে শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছি। তাঁর কাছ থেকে আমরা কোনোদিন কোনোকিছুর অভাব বোধ করিনি। আজ আমাদের হৃদয়পটে বারবার ভেসে উঠছে সেই স্মৃতিবিজড়িত হিরন্ময় মুহূর্তগুলো। তাই আমাদের স্মৃতির রাজ্যে তিনি অমর, অক্ষয় ও চিরঞ্জীব। তাঁর বিচ্ছেদ-বেদনা আমাদের কোমল হৃদয়কে গভীরভাবে আপ্লুত করছে-
এত আশা ভালবাসা, এতই নিরাশা, এত দুঃখ কেন?
সুধী,
তাঁর অন্তঃকরণ ছিল পবিত্র ও মহৎ। তাঁর মধুর ব্যবহার, আচার-আচরণ ও চারিত্রিক মাহাত্ম্য কখনো ভোলার নয়। কিন্তু আমরা?-কী দেব তাঁকে- আছে শুধু অশ্রুজল। আজ বুঝতে পেরেছি, আমাদের কাছে তিনি কত বড় সম্পদ ছিলেন। তিনি নিরলস সাধনায় শিক্ষার্থীদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছেন। অনেকেই জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাঁর সুচিন্তিত দিকনির্দেশনায়। তাই আমাদের কণ্ঠ থেকে আজ অবলীলায় উচ্চারিত হচ্ছে :
কত রাজ্য, কত রাজা গড়িছ নীরবে
হে পূজ্য, হে প্রিয়-
একত্বে বরেণ্য তুমি, শরণ্য এককে,-
সুধীবৃন্দ,
নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি ছিলেন অনড়। শত প্রলোভন তাঁকে নীতিপথ থেকে এতটুকু বিচ্যুত করতে পারেনি। কিন্তু তাঁর গুণের প্রকৃত মূল্যায়ন আমরা করতে পারিনি। বয়সের দোষে, কখনো বা ঔদ্ধত্য রিপুর চাপে তাঁর প্রতি আমরা বহু অপরাধ করেছি, অশোভন হয়েছি। আজ বিদায়লগ্নে তাঁর কাছে আমাদের আরজ-স্বীয় বদান্যতা ও ঔদার্যগুণে তিনি যেন আমাদের শত ভুলত্রুটি মার্জনা করে বিদায়ী আশীর্বাদে কামনা করেন, আমাদের ভবিষ্যৎ যেন উজ্জ্বল প্রভাকরের ন্যায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে- এটি আমাদের একান্ত আরাধ্য। পরিশেষে পরম করুণাময় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তাঁর স্বাস্থ্য, শতায়ু ও সুখকর জীবন কামনা করে অশ্রুপূর্ণ নয়নে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেয।