সূচনা :
বাংলাদেশ ফুলের দেশ। এদেশের বাগানে, মাঠে-ঘাটে ফোটে হাজারো রকমের ফুল। এর মধ্যে একটি হলো শাপলা ফুল। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর শাপলা ফুলকে জাতীয় ফুলের মর্যাদা দিয়েছে।
জন্মস্থান :
শাপলা একপ্রকার জলজ ফুল। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বাংলাদেশের খাল, বিল, হাওড়, পুকুর, ডোবা প্রভৃতি স্থানে প্রচুর শাপলা ফোটে। মাঠের আমন ধানের ক্ষেতেও শাপলা ভালো জন্মে। এর মূল থাকে মাটির নিচে। বর্ষার পানির স্পর্শ পেয়ে এর ডাঁটা বের হয়।
প্রকারভেদ :
শাপলা ফুল প্রধানত তিন প্রকার — তারকা শাপলা, রাতাইল শাপলা ও হুন্দী শাপলা। তারকা শাপলার রং নীল, রাতাইল শাপলা টুকটুকে লাল আর হুন্দী শাপলা ধবধবে সাদা। তবে সাদা শাপলাই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তাই সাদা শাপলাই আমাদের জাতীয় ফুল। শাপলার পাতাগুলো বেশ বড়, একদিক খসখসে আর একদিক মসৃণ। পাতাগুলো ফুলকে ঘিরে পানির ওপর ভাসতে থাকে। শাপলা ফুলের পাঁচটি অংশ — পাপড়ি, কেশর, পরাগ, মূল অংশ ও বোঁটা।
ব্যবহার :
শাপলার ডাঁটা তরকারি হিসেবে বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। মাটিতে থাকা শাপলার গোলাকার মূলকে শালুক বলে, যা সিদ্ধ বা পুড়িয়ে খাওয়া যায়। গ্রামের গরিব মানুষেরা শালুক সংগ্রহ করে খাদ্য হিসেবে খায়। শাপলা ফুলের গোড়ায় থাকা ‘ঢ্যাপ’ দিয়ে তৈরি হয় মজার খাবার ঢেপের খই।
জাতীয় মর্যাদা :
আমাদের জাতীয় প্রতীকে ধানশীষ বেষ্টিত পানিতে ভাসমান শাপলা রয়েছে। বাংলাদেশের টাকা, পয়সা ও ডাক টিকিটেও শাপলার ছবি দেখা যায়। শাপলা তাই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
উপসংহার :
শাপলার শোভা ও সৌন্দর্য অপরূপ। গ্রামবাংলার জলাভূমির রানী বলা হয় একে। শাপলার সৌন্দর্যের জন্যই একে জাতীয় ফুলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বাঙালির জীবন শাপলা ফুলের মতো পবিত্র হয়ে উঠুক, এ কামনা করি।