আম(عَامٌّ) কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি উদাহরণ সহ

উসূলে ফিকহশাস্ত্রে خَاصٌّ-এর পাশাপাশি আম (عَامٌّ) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। خَاصٌّ-এর বিপরীত হচ্ছে আম (عَامٌّ); সুতরাং উসূলে ফিকহের একজন জ্ঞান পিপাসুর জন্য عَامٌّ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকা অতি জরুরি। নিচে এ সংক্রান্ত আলোচনা উপস্থাপন করা হলো।

আম (عَامٌّ)-অর্থ কি ?

আভিধানিক অর্থ: عَامٌّ শব্দটি বাবে نَصَرَ হতে إِسْمٌ فَاعِلٌ এর وَاحِدٌ مُذَكَّرٌ সীগাহ। এর মাসদার হলো عُمُوْمٌ তথা ব্যাপক হওয়া। আভিধানিক অর্থ—

১. ব্যাপক।
২. ضِدُّ الْخَاصِّ তথা خَاصٌّ-এর বিপরীত।
৩. আবার عَامٌّ শব্দটি সর্বসাধারণ অর্থেও ব্যবহার হয়। যেমন বলা হয়— عَوَامُّ النَّاسِ তথা সর্বসাধারণ।
৪. ইংরেজিতে একে বলা হয়— Comprehensive.

আম (عَامٌّ) কাকে বলে ?

১. আল্লামা নিযামুদ্দিন শাশি (র.) বলেন—

وَالْعَامُّ كُلُّهُ لَفْظٌ يَنْتَظِمُ جَمْعًا مِنَ الْأَفْرَادِ، إِمَّا لَفْظًا وَإِمَّا مَعْنًى

অর্থাৎ, عَامٌّ এমন একটি ব্যাপক অর্থজ্ঞাপক শব্দ যা বহুসংখ্যক ব্যক্তি বা বস্তুকে এক সময় শাব্দিক অথবা অর্থের দিক দিয়ে একত্র করে।

২. আল্লামা আবুল বারাকাত আন নাসাফি (র.) বলেন—

أَمَّا الْعَامُّ فَمَا يَتَنَاوَلُ أَفْرَادًا مُتَّفِقَةَ الْحُدُودِ عَلَى سَبِيلِ الشُّمُولِ

অর্থাৎ, عَامٌّ এমন একটি শব্দ যা ব্যাপকতার ভিত্তিতে এমন কতগুলো বস্তু বা ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে যাদের পরিচয় এক ও অভিন্ন।

উদাহরণ: ক. أَقْلَامٌ, مُسْلِمُوْنَ, مُؤْمِنُوْنَ, كُتُبٌ, نِسَاءٌ ইত্যাদি এসব শব্দ সত্তাগতভাবে ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে। এটাকে عَامٌّ لَفْظِيٌّ বলে।

খ. مَنْ এটা ذَوِي الْعُقُوْلِ এবং مَا-টি غَيْرُ ذَوِي الْعُقُوْلِ-এর জন্য ব্যবহার হয়। এটাকে عَامٌّ مَعْنَوِيٌّ বলে।

সম্পর্কিত পোস্ট : খাস (خَاصٌّ)কাকে বলে? এর অর্থ, প্রকারভেদ ও হুকুম

আম (عَامٌّ)কত প্রকার ও কি কি ?

আম প্রথমত দুপ্রকার। যথা— ১. لَفْظِيٌّ ও ২. مَعْنَوِيٌّ ।

১. لَفْظِيٌّ : লাফযি এমন এক প্রকার عَامٌّ-কে বলা হয়, যা শব্দের দিকে লক্ষ্য করে عَامٌّ সাব্যস্ত হয়। যেমন— مُشْرِكُوْنَ – مُسْلِمُوْنَ ইত্যাদি।

২. مَعْنَوِيٌّ: এটা এমন এক প্রকার عَامٌّ-কে বলা হয়, যা শব্দগতভাবে বহুবচন নয়; কিন্তু অর্থের দিক থেকে বহু এককেকে বোঝায়। যেমন— مَنْ – مَا ইত্যাদি।

উসূলুশ শাশি গ্রন্থে عَامٌّ-কে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা—

১. عَامٌّ خُصَّ عَنْهُ الْبَعْضُ
২. عَامٌّ لَمْ يُخَصَّ عَنْهُ الْبَعْضُ

১. عَامٌّ خُصَّ عَنْهُ الْبَعْضُ: এটা এমন عَامٌّ-কে বলা হয়, যা প্রথমে عَامٌّ-ই ছিল; কিন্তু পরে অকাট্য দলীল দ্বারা তার মধ্য হতে কিছু অংশকে خَاصٌّ করা হয়েছে।

উদাহরণ: আল্লাহর বাণী— إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِيْ خُسْرٍ إِلَّا الَّذِيْنَ آمَنُوْا আয়াতে الْإِنْسَانَ শব্দটি عَامٌّ خُصَّ عَنْهُ الْبَعْضُ-এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এখানে الَّذِيْنَ آمَنُوْا দ্বারা ঈমানদারকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের থেকে খাস করা হয়েছে।

خَاصٌّ عَامٌّ خُصَّ عَنْهُ الْبَعْضُ-এর হুকুম: এ প্রকার আমের বিধান হলো, خَاصٌّ করার পরে যেসব فَرْدٌ তথা একক অবশিষ্ট থাকবে, তার ওপর ظَنِّيٌّ ভাবে আমল করা ওয়াজিব; কিন্তু তিনটি فَرْدٌ অবশিষ্ট থাকা অবধি تَخْصِيْصٌ-এর সম্ভাবনা থাকবে।

২. عَامٌّ لَمْ يُخَصَّ عَنْهُ الْبَعْضُ: এটা এমন عَامٌّ-কে বলা হয়, যা হতে পরবর্তীতে কোনো কিছু خَاصٌّ করা হয়নি।

উদাহরণ: যেমন— اسْتَنْزِهُوْا عَنِ الْبَوْلِ অর্থাৎ, তোমরা পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জন কর। এখানে الْبَوْلُ শব্দটি عَامٌّ لَمْ يُخَصَّ عَنْهُ الْبَعْضُ-এর অন্তর্ভুক্ত। কারণ এখান থেকে পরবর্তীতে কিছু খাস করা হয়নি।

عَامٌّ لَمْ يُخَصَّ عَنْهُ الْبَعْضُ-এর হুকুম : এ প্রকার عَامٌّ-এর হুকুম হলো—

১. ইমাম আবু হানীফা (র.)-এর মতে, এর ওপর خَاصٌّ-এর ন্যায় অকাট্যভাবে আমল করা ওয়াজিব।

২. ইমাম শাফেয়ী (র.)-এর মতে, এটা কেয়াস বা খবরে ওয়াহেদের সমান। তাই এটার ওপর ظَنِّيٌّ ভাবে আমল করা ওয়াজিব।

সর্বশেষ : عَامٌّ একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। ইসলামী শরীয়তের বিধানানুযায়ী এটা খাসের মতোই অকাট্য এবং এর ওপর আমল করা ওয়াজিব।

সম্পর্কিত পোস্ট : মুতলাক ও মুকাইয়াদ কাকে বলে? অর্থ, হুকুম ও উদাহরণ

শিক্ষাগার

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে লাখো শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment