কিতাবুল্লাহ তথা আল্লাহর কিতাব আল কুরআনের নির্দেশাবলির বিভিন্ন ধরন ও প্রকৃতির মধ্যে মুতলাক (مُطْلَقٌ) ও মুকাইয়াদ (مُقَيَّدٌ) দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে এ উভয়ের বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।
মুতলাক অর্থ কি ?
আভিধানিক অর্থ: مُطْلَقٌ শব্দটি বাবে إِفْعَالٌ থেকে إِسْمُ مَفْعُوْلٌ-এর وَاحِدٌ مُذَكَّرٌ সীগাহ। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে—
- সাধারণকৃত।
- مُقَيَّدٌ-এর বিপরীত।
- শর্তহীন।
- বাধাহীন।
- সম্পূর্ণ।
মুতলাক কাকে বলে ?
১. আল্লামা জুরজানি (র.) বলেন—
الْمُطْلَقُ مَا يَدُلُّ عَلَى وَاحِدٍ غَيْرِ مُعَيَّنٍ
অর্থাৎ, যা অনির্দিষ্টভাবে একটির প্রতি ইঙ্গিত করে তাকে মুতলাক বলে।
২. আল্লামা মোল্লাজিউন (র.) বলেন—
مُطْلَقٌ أَيْ غَيْرُ مُقَيَّدٍ بِصِفَةِ الْيُسْرِ وَالسُّهُوْلَةِ
অর্থাৎ, মুতলাক উহাকে বলা হয়, যা সহজতার শর্তের সাথে শর্তযুক্ত নয়।
৩. যা শুধু ذَاتٌ বোঝায়, ذَاتٌ-এর সাথে কোনো وَصْفٌ বা প্রাসঙ্গিক অর্থ বোঝায় না, তাকে مُطْلَقٌ বলে।
সম্পর্কিত পোস্ট : খাস (خَاصٌّ)কাকে বলে? এর অর্থ, প্রকারভেদ ও হুকুম
মুকাইয়াদ অর্থ কি ?
আভিধানিক অর্থ: مُقَيَّدٌ শব্দটি قَيَّدَ মাসদার থেকে বাবে تَفْعِيْلٌ-এর إِسْمُ مَفْعُوْلٌ-এর وَاحِدٌ مُذَكَّرٌ সীগাহ। এর আভিধানিক অর্থ হলো –
- কয়েদকৃত।
- শর্তযুক্ত।
- مُطْلَقٌ-এর বিপরীত ইত্যাদি।
মুকাইয়াদ কাকে বলে ?
১. উসূল শাস্ত্রবিদগণের নিকট مُقَيَّدٌ হচ্ছে—
الْمُقَيَّدُ مَا يَدُلُّ عَلَى أَمْرٍ مَعَ شَرَاءِطِهِ وَقُيُودِهِ
অর্থাৎ মুক্বাইয়াদ ঐ বিধানকে বলে, যা বিভিন্ন শর্তে ও বন্ধনে আবদ্ধ।
২. কতিপয় আলেম বলেন—
الْمُقَيَّدُ هُوَ الْحُكْمُ مَعَ الْقُيُوْدِ وَالشُّرُوْطِ
৩. পরিভাষায় مُقَيَّدٌ বলা হয় এমন শব্দকে, যা কোনো وَصْفٌ তথা গুণসহ ذَاتٌ-কে বোঝায়।
كِتَابُ اللهِ-এর মধ্যে বর্ণিত مُطْلَقٌ-এর হুকুম :
كِتَابُ اللهِ-এর মধ্যে বর্ণিত مُطْلَقٌ-এর হুকুমের ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। যেমন—
১. হানাফিদের অভিমত:
ক. হানাফিদের মতে, مُطْلَقٌ খাসের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কুরআনের مُطْلَقٌ খাসের ন্যায় অকাট্যভাবে আমলযোগ্য।
খ. مُطْلَقٌ অনির্দিষ্ট বিধায় কোনো গুণের সাথে এর সম্পর্ক থাকবে না।
গ. খবরে وَاحِدٌ অথবা কেয়াস দ্বারা অতিরিক্ত করা যাবে না।
ঘ. তবে কোনোরূপ বিরোধ সৃষ্টি হলে উভয়ের মধ্যে যদি সমঝোতা করা সম্ভব হয়, তবে তা উত্তম। অন্যথা خَبَرُ وَاحِدٌ ও কেয়াস পরিত্যাজ্য হবে।
২. শাফেয়িদের অভিমত:
শাফেয়িদের নিকট مُطْلَقٌ অনির্দিষ্ট তথা عَامٌّ-এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এটাকে خَبَرُ وَاحِدٌ দ্বারা অতিরঞ্জিত করা যাবে।
সম্পর্কিত পোস্ট : আমরে মুতলাক (أَمْرٌ مُطْلَقٌ) কাকে বলে? অর্থ, হুকুম, উদাহরণ
মুতলাক (مُطْلَقٌ)-এর উদাহরণ :
যেমন মহান আল্লাহর বাণী— فَاغْسِلُوْا وُجُوْهَكُمْ এ আয়াতে গোসল অনির্দিষ্ট। এখানে গোসলকে নিয়ত ও তারতিব দ্বারা সংযোগ এবং বিসমিল্লাহর সাথে মুকাইয়াদ তথা নির্দিষ্ট করা যাবে না। মুতলাকে অনির্দিষ্টের ওপর রাখতে হবে আর নিয়ত ইত্যাদি খবরে ওয়াহেদ দ্বারা প্রমাণিত। অবশ্য উভয়ের মধ্যে এভাবে মিল করা যেতে পারে যে, গোসল ফরয এবং নিয়ত ইত্যাদি মুস্তাহাব অথবা সুন্নাত।
পরিশেষে: উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহের মধ্যে مُطْلَقٌ এবং مُقَيَّدٌ অন্যতম। শরয়ী বিধিবিধান নির্ধারণে এ দুটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।