ইসলামী শরীয়ার শীর্ষস্থানীয় মূলনীতি كِتَابُ اللهِ ও سُنَّةُ رَسُولِ রাসূল থেকে আহকামে শরীয়া উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে খাস এর গুরুত্ব অপরিসীম। কাজেই খাস (خَاصٌّ) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা একান্তই প্রয়োজন। তা না হলে মাসয়ালা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। নিম্নে খাস এর পরিচয়, প্রকারভেদ ও হুকুম বিস্তারিত আলোকপাত করা হলো –
খাস শব্দের অর্থ কি?
আভিধানিক অর্থ: خَاصٌّ শব্দটি বাবে نَصَرَ থেকে إِسْمُ فَاعِلٌ -এর وَاحِدٌ مُذَكَّرٌ -এর সীগাহ, এটা خُصُوْصٌ মাসদার হতে নির্গত। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে—
- مُعَيَّنٌ তথা নির্দিষ্ট।
- مُقَدَّرٌ তথা নির্ধারিত।
- الْمُشَخَّصُ তথা সুনির্ধারিত।
- ضِدُّ الْعَامِّ তথা আমের বিপরীত
- স্থিরীকৃত ইত্যাদি।
খাস কাকে বলে ?
যে সকল শব্দকে পৃথকভাবে নির্দিষ্ট অর্থ অথবা নির্দিষ্ট নামের জন্য গঠন করা হয়েছে তাদেরকে খাস (خَاص) বলা হয় । যেমন— خَالِد (একজনের নাম)। خَالِد বলতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি খালেদকেই বোঝায়, অনা কাউকে নয়। সুতরাং শব্দটি خَاصٌّ ।
১. কতিপয় উসূলিবদ বলেন—
الْخَاصُّ لَفْظٌ يَدُلُّ عَلَى فَرْدٍ مُعَيَّنٍ أَوْ جِنْسٍ
অর্থাৎ, خَاصٌّ এমন শব্দকে বলা হয় হয়, যা দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তি অথবা নির্দিষ্ট জাতিকে বোঝায়।
২. উসূলে বাযদাভী প্রণেতার মতে—
هُوَ كُلُّ لَفْظٍ وُضِعَ لِمَعْنًى وَاحِدٍ عَلَى الِانْفِرَادِ
৩. ইলমু উসূলিল ফিকহ গ্রন্থকারের মতে—
هُوَ لَفْظٌ وُضِعَ لِدَلَالَةٍ عَلَى فَرْدٍ وَاحِدٍ بِالشَّخْصِ
মোটকথা, خَاصٌّ এমন একটি একক অর্থবোধক শব্দ, যা ব্যাপকতার পরিবর্তে নির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়াবলিকে শামিল করে।
সম্পর্কিত পোস্ট : আম(عَامٌّ) কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি উদাহরণ সহ
খাস (خَاصٌّ)-এর উদাহরণ :
১. زَيْدٌ তথা একজনের নাম, যার দ্বারা যায়েদ নামের নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেই শুধু বোঝাবে।
২. إِنْسَانٌ তথা মানুষ, যার দ্বারা কেবল নির্দিষ্ট জাতি মানুষকেই বোঝায়।
৩. اِمْرَأَةٌ তথা মহিলা, যার দ্বারা কেবল নির্দিষ্টভাবে নারী জাতিকেই বোঝায়।
খাস (خَاصٌّ)-এর প্রকারভেদ :
خَاصٌّ সর্বমোট তিন প্রকার। যথা—
১. خُصُوْصُ الْفَرْدِ তথা ব্যক্তি সংক্রান্ত খাস।
২. خُصُوْصُ النَّوْعِ তথা শ্রেণি সংক্রান্ত খাস।
৩. خُصُوْصُ الْجِنْسِ তথা জাতিগত খাস।
১. خُصُوْصُ الْفَرْدِ-এর পরিচিতি: فَرْدٌ শব্দের অর্থ ব্যক্তি। আর خُصُوْصُ الْفَرْدِ-এর অর্থ হলো ব্যক্তি সংক্রান্ত খাস। পরিভাষায়— যে শব্দ দ্বারা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায় তাকে خُصُوْصُ الْفَرْدِ নামে আখ্যায়িত করা হয়।
উদাহরণ: যেমন— شَرِيْفٌ (একজনের নাম)। শরিফ বলতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি শরিফকেই বোঝায়, অন্য কাউকে নয়। সুতরাং এটি خُصُوْصُ الْفَرْدِ।
২. خُصُوْصُ النَّوْعِ-এর পরিচিতি: نَوْعٌ শব্দের অর্থ শ্রেণি। আর خُصُوْصُ النَّوْعِ-এর অর্থ হলো শ্রেণি সংক্রান্ত খাস। পরিভাষায়— যে خَاصٌّ দ্বারা নির্দিষ্টভাবে একটি শ্রেণিকে বোঝায়, তাকে خُصُوْصُ النَّوْعِ বলা হয়।
উদাহরণ: যেমন— رَجُلٌ দ্বারা পুরুষ জাতিকে আর اِمْرَأَةٌ দ্বারা নারী জাতিকে বোঝানো হয়ে থাকে। উভয়টি মানুষ জাতির এক একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি বা অংশ।
সম্পর্কিত পোস্ট : আমর (أَمْر) কাকে বলে? অর্থ, হুকুম ও কয়টি অর্থে ব্যবহার হয়
৩. خُصُوْصُ الْجِنْسِ-এর পরিচিতি: جِنْسٌ শব্দের অর্থ জাতি। আর خُصُوْصُ الْجِنْسِ-এর অর্থ হলো জাতিগত খাস। পরিভাষায়— যে خَاصٌّ দ্বারা নির্দিষ্টভাবে কোনো জাতি বোঝায় আর যদি তার মধ্যে বহু উপজাতি ও বহু একক বিদ্যমান থাকে, তবে তাকে خُصُوْصُ الْجِنْسِ বলে।
উদাহরণ: যেমন— إِنْسَانٌ একটি জাতি, এর মধ্যে নর-নারী উভয়ই বিদ্যমান।
খাস (خَاصٌّ)-এর হুকুম :
خَاصٌّ-এর দুটি হুকুম রয়েছে। যথা—
১. يَجِبُ الْعَمَلُ بِهِ لَا مَحَالَةَ অর্থাৎ, কোনোরূপ সন্দেহ, সংশয় ছাড়াই এর ওপর আমল করা অবশ্য কর্তব্য। قِيَاسٌ বা خَبَرُ وَاحِدٌ যদি খাসের বিপরীত হয়, তবে উভয়ের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করতে হবে। আর যদি সামঞ্জস্য বিধান করা সম্ভব না হয়, তাহলে خَبَرُ وَاحِدٌ ও قِيَاسٌ-কে বর্জন করতে হবে। কারণ خَاصٌّ (খাস) عِلْمُ يَقِيْنٍ তথা অকাট্য জ্ঞানের উপকারিতা দেয়।
২. لَا يَحْتَمِلُ الْبَيَانَ لِكَوْنِهِ بَيِّنًا অর্থাৎ, “খাস নিজেই প্রকাশ্য হওয়ার কারণে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের অবকাশ রাখে না।” অতএব অন্য কোনো نَصٌّ বা قِيَاسٌ দ্বারা ব্যাখ্যা করে এর ওপর কোনো হুকুম বৃদ্ধি করা বৈধ হবে না।
সর্বশেষ : খাস নির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ, যা অকাট্য জ্ঞানের উপকারিতা দেয়। সুতরাং এর ওপর আমল করা অত্যাবশ্যক।