প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের শেখার সুবিধার্থে- মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয় আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা রবির হারা শশী অন্ধকারেই ফিরে আসে। এ ভাবসম্প্রসারটি তিন বই থেকে ৩টি সংগ্রহ করে দেয়া হলো। যেটা সহজ মনে হয় সেটাই শিখে নিতে পারো।
ভাব সম্প্রসারণ – ১
মূলভাব : দুঃখ-দুর্দশায় আমাদের ভেঙ্গে পড়া উচিত নয়। কেননা, দুঃখের মধ্য দিয়েই জীবনে আসে সত্যিকার সুখ।
সম্প্রসারিত ভাব : মানুব জীবনে সুখ ও দুঃখ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষ দুঃখকে ভয় করে। কিন্তু দুঃখের তমস্যা রাত্রি পার হয়েই আসে আনন্দঘন সুপ্রভাত। দুঃখের অগ্নি পরীক্ষার ভেতর দিয়েই মানুষের জীবন শুচি-শুভ্র হয়ে উঠে। দুঃখই তাকে দান করে মহিমা। দুঃখের সিঁড়ি বেয়েই আসে সত্যিকার সুখ ও শান্তি। মেঘের আড়ালেই লুকানো থাকে দিবসের প্রদীপ্ত সূর্য। মেঘ যত গভীর এবং ঘনতরই হউক না কেন, সে সূর্যকে সবসময় আড়াল করে রাখতে পারবে না। মেঘ কেটে গেলেই হেসে উঠবে সূর্য। অমাবস্যার অন্ধকার সাময়িকভাবে চাঁদকে গ্রাস করতে পারলেও সেই অন্ধকারকে বিদীর্ণ করে হেসে উঠে নতুন চাঁদ। সুতরাং দুঃখ ও বিপদে ভেঙ্গে পড়া উচিত নয়; বরং বলিষ্ঠ আত্মবিশ্বাসে তার মোকাবেলা করতে হবে।
মন্তব্য: সুখ ও দুঃখ পর্যায়ক্রমে আসে। তাই দুঃখকে ভয় না করে সুখ ও দুঃখ উভয়কেই সমভাবে গ্রহণ করা উচিত।
ভাব সম্প্রসারণ – ২
মূলভাব : সুখ এবং দুঃখ পালাক্রমে চলে। তাই দুঃখ-যন্ত্রণা দেখে ভীত হওয়া উচিত নয়। দুঃখ-যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই মানুষ লাভ করে মহিমান্বিত জীবন।
সম্প্রসারিত ভাব : মানবজীবনে দুঃখ-বিপদ চিরস্থায়ী নয়। দুঃখের সিঁড়ি বেয়েই মানুষকে সুখের প্রাসাদে পৌঁছতে হয়। মানবজীবন দুঃখ ও সুখের সুতায় বোনা। কিন্তু মানুষ শুধু সুখের আশাই করে, দুঃখ চায় না। তাই সে দুঃখ-যন্ত্রণাকে এড়িয়ে যেতে চায়। জীবনে যখন দুঃখের ঘোর অন্ধকার নেমে আসে তখন মনে হয়- এ অমানিশার বুঝি শেষ নেই। কিন্তু দুঃখ ও বেদনার সেই কালো আঁধার একসময় কেটে যায়। আকাশে উদিত হয় নতুন সূর্য এবং আগমন ঘটে সুখ-শান্তির। দুঃখকষ্ট মাড়িয়েই সুখ অর্জন করতে হয়। কারণ দুঃখকষ্ট কখনই জীবনে স্থায়ী হয় না। তাই জীবনে দুঃখ দেখা দিলে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া উচিত নয়। আকাশে মেঘ জমলে সূর্য ঢাকা পড়ে। মেঘ যতই গভীর এবং ঘন কালো হোক না কেন, সে সূর্যকে চিরদিন আড়াল করে রাখতে পারে না। ক্ষণস্থায়ী মেঘ একসময় কেটে গেলে আকাশের বুকে সোনালি সূর্য তার পূর্ণদীপ্তি নিয়ে ভেসে ওঠে। অমাবস্যার অন্ধকার চারদিকে ছেয়ে চাঁদকে আড়াল করে রাখে। কিন্তু তাই বলে চাঁদ উঠবে না একথা বলা যায় না। অমাবস্যার সময় শেষ হলেই আঁধারের বুক চিরে আকাশে ভেসে ওঠে নতুন চাঁদ। ঠিক তেমনি জীবনে দুঃখ-যন্ত্রণা সাময়িক সময়ের জন্য আসে। কিছুদিন পরে তা তিরোহিত হয়। আর সুখ স্থায়ীভাবে বাসা বাঁধে। তাই সাময়িক বাধাবিপত্তি, দুঃখকষ্টকে তুচ্ছ করে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে সুখের পথ চেয়ে দুঃখকে আলিঙ্গন করতে হবে। তবেই জীবনে সুখ-শান্তি ও সাফল্য অনিবার্যভাবে আবির্ভূত হবে।
মন্তব্য: দুঃখ সুখের দোলায় দুলছে আমাদের এই পার্থিব জীবন। দুঃখ-বিপদে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দুঃখের রজনি যত গভীর হবে, সুখের প্রভাতও তত নিকটবর্তী হবে। সুখ-দুঃখ উভয়কেই আমাদের সমভাবে গ্রহণ করা উচিত।
ভাব সম্প্রসারণ – ৩
মূলভাব: দুঃখের আড়ালেই সুখ থাকে। সুখকে পেতে হলে দুঃখকে অবশ্যই অতিক্রম করতে হয়।
সম্প্রসারিত ভাব : পার্থিব জীবনে দুঃখ কেউ চায় না। সকলেই চায় মানসিক সুখের জীবন। কিন্তু জীবন পুষ্পস্তর নয়, এর মাঝেও আঘাত আছে। বহু বাধাবিঘ্ন জীবনে ঝুঁকিবিক্ষত করে। কেবল সুখ যেমন কারো জীবনে আসে না, তেমনি দুঃখও কারো জীবনে চিরদিন থাকে না। দুঃখ আর আঘাতকে ভয় করলে কোনোদিনেই সুখ পাওয়া যাবে না। দুঃখের দীর্ঘপথ অতিক্রম করেই সুখের মুখ দেখা যায়। মানুষ একাগ্রচিত্তে সাধনা করলে একদিন না একদিন আনন্দ-সূর্য তার চিত্ত-আকাশে উঠবেই। আকাশ মেঘ করলে সূর্য ঢাকা পড়ে যায়। মেঘ যত ঘনই হোক না কেন সে চিরদিন সূর্যকে আড়াল করে রাখতে পারে না, মেঘ কেটে গেলেই সূর্য আকাশের বুকে তার পূর্ণ দীপ্তি নিয়ে উঠে যায়। অমাব সেরয় আকাশের বুক থেকে চাঁদ হারিয়ে যায়, অন্ধকার চারপাশে ছেয়ে যায়। কিন্তু তাই বলে চাঁদ আর উপরে না এ কথা বলা যায় না। অমাবস্যার কাল শেষ হলেই চাঁদ আকাশে উপরে এবং আলো ছড়াবে ঠিক একইভাবে মানবজীবনেও সুখ- দুঃখ ওত প্রোতভাবে জড়িত। দুঃখের পরই সুখ। এটাই জীবনের নিয়ম। কিন্তু মানুষ ক্রমাগত সুখসন্ধানী। সে দুঃখকে সীমান্ত মেনে নিতে চায় না। দুঃখ শুরু হলে তার কাছে মনে হয় এ দুঃখ অনন্তকালের, এ দুঃখ শেষ হওয়ার নয়। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মই হলো দুঃখের পর সুখ। এ পরিস্থিতি দুঃখের সময় হতাশ হলে চলবে না; বরং আত্মবিশ্বাস নিয়ে তার মোকাবেলা করতে হবে। তবে আকাশ থেকে মেঘ সরে যায় প্রকৃতির নিয়মে। অমাবস্যার রাত ফুরিয়ে যায় মহাজাগতিক নিয়মে কিন্তু মানবজীবনে দুঃখের পর সুখ স্বাভাবিক নিয়মে সবসময় আসে না। দুঃখকষ্ট ও বাধাবিপত্তিকে সরিয়ে দিতে হয় মানুষকে চেষ্টা করে। সাহস, ধৈর্য, আগ্রা ও উৎসাহ নিয়ে চেষ্টা করলে সাফল্য অনিবার্যভাবে ধরা দেয়।
মন্তব্য: সুখ ও দুঃখ, এ দু’অবস্থাতেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে প্রকৃত মুমিনের পরিচায়ক। তাই দুঃখে ধৈর্য ধরে এগুতে পারলেই প্রত্যাশিত সুখ আসবে।


