উপস্থাপনা:
আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন একটি লক্ষ্য নিয়ে। সীমিত জীবনের অনাবিল আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি মানুষের জীবনেই একটি লক্ষ্য থাকে। যেমন বলা হয়- An aimless life is like a boat without a rudder. অর্থাৎ, লক্ষ্যহীন জীবন হালছাড়া নৌকার মতো।
জীবনে লক্ষ্য স্থির করার প্রয়োজনীয়তা:
জীবনে সার্থকতা লাভ করতে হলে একটি দৃঢ় সংকল্প চাই। মানব জমিনে সোনা ফলাতে হবে। এজন্য যথাসময়ে বীজ বপন এবং আনুষঙ্গিক পরিশ্রম ও সাধনার দরকার। তেমনি জীবনের উদ্দেশ্যকে সার্থক করে তুলতে হলে প্রয়োজন সাধনার, প্রয়োজন একনিষ্ঠ শ্রমের।
ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘An aimless life is like a boat without a rudder.’ তাই জীবনের চলার পথে চাই নির্দিষ্ট এবং সুপরিকল্পিত পথরেখা। সেই পথরেখাই সফলতার তোরণ-দুয়ারে উপনীত করবে। সেজন্য জীবনের সূচনাতেই লক্ষ্য স্থির হওয়া উচিত।
ছাত্রাবস্থায়ই লক্ষ্য স্থির করার উপযুক্ত সময়:
ছাত্রজীবন পরিণত জীবনের প্রস্তুতি পর্ব। ছাত্রাবস্থার স্বপ্ন ও কল্পনা পরিণত জীবনে বাস্তবের মাটিতে ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে সার্থক হয়। কিন্তু স্বপ্ন কেবল স্বপ্ন হলেই, কিংবা কল্পনা, অবাস্তব ও উদ্ভট হলেই চলে না; পরিণত জীবনের লক্ষ্যবাহী হওয়া চাই। আর সেজন্য ছাত্রাবস্থাতেই জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে হয়। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে অগ্রসর হতে হয় শ্রম, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও একাগ্রতার সঙ্গে।
মানুষের কর্মজীবন বিকশিত হতে পারে বিচিত্র পথে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাধনা, চিকিৎসাসেবা দান, শিল্প-কলকারখানা স্থাপন, ব্যবসায়-বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা পালন- নানাভাবে মানুষ কর্মজীবনে ভূমিকা রাখতে পারে।
পেশা হিসেবে কেউ বেছে নিতে পারে চাকরি, কেউ হতে পারে আইনজ্ঞ, কেউ হতে পারে প্রকৌশলী, কেউ-বা ব্রতী হতে পারে শিক্ষকতার মহান পেশায়, কেউ-বা বেছে নিতে পারে কৃষি উন্নয়ন।
মানুষ যে পেশাই বেছে নিতে চায়, তা অনেকাংশে নির্ভর করে শারীরিক সামর্থ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থিক স্বচ্ছলতা ও উপযুক্ত পরিবেশের ওপর। অনেক পেশায় কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করতে হয়। সেজন্য জীবনের লক্ষ্য ঠিক করার সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুযায়ী পাঠ্যক্রম ঠিক করতে হয়।
আমার ভাবনা:
বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। দারিদ্র্য, অনাহার, রোগ-শোকে এ দেশ জর্জরিত। আমার কিশোর মনে ইচ্ছে জাগে ইঞ্জিনিয়ার, বৈজ্ঞানিক, বৈমানিক, ডাক্তার বা সাহিত্যিক হওয়ার। কিন্তু আমাদের চারপাশের অবস্থা দেখে আমি কী হব, তা নিয়ে চিন্তায় পড়তাম। পরিশেষে আমি আমার লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছি।
আমার জীবনের লক্ষ্য:
বিশাল মানবসমষ্টির দারিদ্র্য, রোগ-শোকের কাতরতা ইত্যাদি যন্ত্রণার দহন আমাকে অস্থির করে তুলেছে। তাই অসুস্থ মানুষের সেবা করার জন্য আমি ডাক্তার হওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ডাক্তার হওয়ার কারণ:
বিশ্বের অনুন্নত দেশসমূহের মধ্যে আমাদের দেশ অন্যতম। অর্থাভাব ও উন্নত চিকিৎসার অভাবে এ দেশের লাখ লাখ লোক রোগে-শোকে প্রতিবছর অকালে প্রাণ হারায়। এ অবস্থা আমাকে বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। তাই মানবসেবার মধ্যে সর্বোত্তম সেবা ‘পীড়িতের সেবা’ করার জন্য আমি ডাক্তার হওয়ার মহান ব্রত গ্রহণ করেছি।
প্রস্তুতি:
আমি আমার লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য বিজ্ঞান পড়ি ও অঙ্ক করি। নির্ধারিত লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমি বিজ্ঞান বিভাগই বেছে নিয়েছি। আশা করি সুস্থ শরীরে নিয়মিত লেখাপড়া করে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায়ই ভালো ফলাফল লাভ করে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হব। যথাসময়ে এম.বি.বি.এস. পাস করে ডাক্তার হতে পারব বলেই আমার আশা।
প্রশিক্ষণ:
চিকিৎসাবিজ্ঞানে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কিছুদিন কলেজ হাসপাতালে হাউস সার্জনের কাজ করব। অতঃপর আমি ইনশাআল্লাহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের শাখাগুলোর মধ্যে যেকোনো একটিতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য উচ্চতর শিক্ষা ও ডিগ্রি অর্জন করব।
সফলতা অর্জন:
আমি জানি লক্ষ্য স্থির করে সাহসের সাথে এগিয়ে গেলে নিশ্চয় একদিন সফলতা আসবে। আমার অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলীর দোয়া এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ রহমতে একদিন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছবই ইনশাআল্লাহ।
কর্মজীবন:
আমি সরকারি চাকরি গ্রহণ না করে গরিব জনসাধারণের সেবা করতে চাই। গ্রামে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় অনেক জটিল রোগী সঠিক চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করে। প্রয়োজনে বিনা ফি’তে আমি গরিব রোগীদের দেখাশোনা করব। তাদেরকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে তুলব। শুধু তাই নয়, আমি সরকারি সহযোগিতায় আমাদের গ্রামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করব।
উপসংহার:
অর্থোপার্জন নয়, দরিদ্র জনগণের সেবাই হবে আমার উদ্দেশ্য। তাই সবদিক চিন্তা করে আমি একজন ডাক্তার হতে চাই।