মূলভাব: কাজ এবং বিশ্রাম একে অন্যের পরিপূরক। কাজ যেমন জীবনে সমৃদ্ধি আনয়ন করে বিশ্রাম তেমনি শক্তি ও প্রেরণা যোগায়।
সম্প্রসারিত ভাব: জীবনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন। মানুষ কখনো অনবরত কাজ করে চলতে পারে না। কোনো যন্ত্রের পক্ষেও তা সম্ভব নয়। মানুষ বা যন্ত্রের একটি নির্দিষ্ট কর্মক্ষমতা থাকে। এর সঙ্গে বিশ্রামের সংযোগ আছে। কাজ করতে করতে মানুষ যখন পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে তখন তার জন্য অবসর একান্তই আবশ্যক হয়ে পড়ে। বিশ্রামের মাধ্যমে নতুনভাবে শক্তি সঞ্চয় করা যায় এবং কাজের ক্ষমতা বাড়ে। ফলে আমরা তখন নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারি। এতে কাজের সফলতা অর্জনে সহায়ক হয়। ক্রমাগত কাজ করলে শক্তি লোপ পেতে থাকে এবং এক সময়ে তা একেবারে নিঃশেষিত হয়ে যায়। যন্ত্রের যান্ত্রিকতার মধ্যেও এ বিশ্রাম অবশ্যই প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় বিশ্রামের প্রয়োজনেই আল্লাহ তায়ালা দিনের কর্মময় জীবনের পর রাতকে বিশ্রামের জন্য রেখেছেন। চোখের বিশ্রামের জন্য যেমন চোখের পাতা, তেমনি কাজের সঙ্গে বিশ্রাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত রয়েছে। তাই বিশ্রামকে কাজের সহায়ক বলে মনে করা হয়।
মন্তব্য: আমাদেরকে মনে রাখত হবে, কাজ ও বিশ্রাম একে অপরের সাথে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যকে চিন্তা করা যায় না। আর তাই কাজের সাথে সাথে বিশ্রামকেও মূল্য দেয়া উচিত।
এই ভাবসম্প্রসারণের ভিন্ন প্রতিলিপন
মূলভাব : বিশ্রাম এবং কাজ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কাজ বয়ে আনে জীবনের সমৃদ্ধি আর বিশ্রাম বয়ে আনে কর্মের নতুন উদ্দীপনা ও শক্তি।
সম্প্রসারিত ভাব: কাজের সঙ্গে মানবজীবন ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য মানুষকে নানা রকম কর্মে জড়িয়ে পড়তে হয়। এ কর্ম ও কর্তব্য পালনের জন্য মানুষকে সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয়। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন কাজের ফলে জীবন চলে না বরং জীবন অচল ও অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই যেখানে কাজ আছে সেখানে বিশ্রাম থাকতেই হবে। কেননা মানুষ যদি একটানা কিছু সময় পরিশ্রম করে তবে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং কর্মক্ষমতা লোপ পায়, আর তখনই সে বিশ্রামের প্রয়োজন অনুভব করে। আর এ জন্যই স্রষ্টা রাত ও দিনের ব্যবস্থা করেছেন। দিনের বেলায় মানুষ পরিশ্রম করে রাতের বেলা যেন বিশ্রাম নিতে পারে। সেজন্য এ ব্যবস্থা। চোখ আমাদের প্রয়োজনীয় অঙ্গ। এর কাজ দেখা, তবুও এ চোখ মাঝে মাঝে বুজে আসে। এ থেকে আমরা বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারি। নয়নের পাতা যেমন নয়নের অংশ, ঠিক তেমনি বিশ্রামও কাজের একটি অংশ। নয়নের পাতা দেখে না কিন্তু দেখতে সাহায্য করে, তেমনি বিশ্রাম কাজ করে না কিন্তু কাজের শক্তি জোগায়। কর্ম ছাড়া জীবনের কথা ভাবাই যায় না। তবে সে কর্মের মধ্যেও বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। কিছুক্ষণ বিশ্রাম করলে ক্লান্তি দূর হয়, মন প্রশান্ত হয় এবং কর্মশক্তি ফিরে আসে, নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে আমরা কাজে আত্মনিয়োগ করতে সক্ষম হই। কর্মের মধ্যেও আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়, আর বিশ্রাম ছাড়া যদি কোনো মানুষ ক্রমাগত কাজ করতে থাকে তবে সে কোনো কাজই ঠিকমতো করতে পারে না। একটানা কর্মে জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে এবং স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কাজের সফলতার জন্য এবং বেশি শক্তি অর্জনের জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। আর এ বিশ্রামের জন্যই রয়েছে আমাদের সমাজজীবনে ছুটির ব্যবস্থা।
মন্তব্য: কাজ এবং বিশ্রাম গভীরভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটিকে কল্পনা করা যায় না। তাই প্রত্যেকেরই কাজ এবং বিশ্রামের মর্ম যথাযথভাবে উপলব্ধি করা উচিত।
