ভাবসম্প্রসারণ: হাতে কাজ করায় অগৌরব নেই,অগৌরব মিথ্যায় আর মূর্খতায়

মূলভাব: যোগ্যতার তারতম্যের জন্য কাজের তারতম্য ঘটলেও সকল শ্রেণির কর্মীরই প্রয়োজন রয়েছে। যে কোনো কায়িক শ্রমের মূল্য রয়েছে।

সম্প্রসারিত ভাব: পরিশ্রমই ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি। পরিশ্রম ছাড়া ধন, মান, জ্ঞান, প্রতিপত্তি কোনো কিছুই সত্যিকার অর্থে অর্জন করা যায় না। অবশ্য কিছু মানুষ জাল-জুয়াচুরি, ছলনা ও ধাপ্পাবাজির সাহায্যে সমাজে ধনী, মানী, জ্ঞানী প্রতিপত্তিশালীরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। আমরা তাদের যথেষ্ট সমাদরও করে থাকি। কিন্তু এরা সত্যিকার অর্থে মানুষ নয়-এরা সমাজের দুষ্ট কীট। মূলত মানুষের প্রকৃত মর্যাদা তার দৈহিক পরিশ্রমে, তার নিজের হাতে কাজ করায়। এতে একদিকে যেমন দেহ থাকে সুঠাম ও সবল, অন্যদিকে মনে থাকে পবিত্রতা ও পরিপূর্ণ তৃপ্তি। শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (স) অনেক কাজ নিজের হাতেই করতেন। মহাত্মা করমচাঁদ গান্ধী তাঁর আশ্রমে সাধারণ সদস্যদের সাথে কাজ করতেন। এভাবেই তাঁরা কর্মের মধ্যে মানুষের প্রকৃত গৌরবকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। অন্যদিকে যারা কাজকে ফাঁকি দিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয়, জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে সচেতন হতে চায় না, তাদের জীবনে গৌরব করার কিছুই নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মিথ্যাচার ও মূর্খতা সর্বকালেই সকল ধর্মে ও সকল সমাজে ঘৃণিত ও পরিত্যাজ্য। এতে মনুষ্যত্ব হয় লাঞ্ছিত। নিজের কাজ নিজ হাতে করাই গৌরব। সে কাজ যত ছোটই হোক না কেন।

মন্তব্য: নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে গৌরব, মিথ্যা বা মুর্খতায় কোনো গৌরব নেই। কেবল অর্থ ও কুলমানের গৌরব নিয়ে বসে বসে অন্ন ধ্বংস করার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই।

এ ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকে সংগৃহীত

মূলভাব: কায়িক শ্রমে অর্থাৎ নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে অগৌরব নেই; বরং যারা কর্মবিমুখ, তারা মূর্খ। এ ধরনের মিথ্যা ও মূর্খতার মাঝেই অগৌরব নিহিত।

সম্প্রসারিত ভাব: আমরা মুখে শ্রমের মর্যাদার কথা বলি বটে, তার গৌরবগাথা গাই বটে, প্রকৃতপক্ষে শ্রমের মর্যাদা দিয়ে হাতে কাজ করি না। হাতে কাজ করাকে অগৌরবের বলে মনে করি। আমরা নিজের কাজ নিজে করাটাকে ছোট হওয়া মনে করি। নিজের কাজ নিজে করে জীবনে উন্নতি লাভ করার থেকে কিছু মানুষ আছে যারা মিথ্যা আর মূর্খতায় নিজেকে আচ্ছন্ন করে রাখে। বস্তুত পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে যাদের কাছে মূর্খতা অভিশাপ মনে হয় না। অথচ নিজের কাজ নিজে করার মধ্যেই গৌরব নিহিত। দৈহিক শ্রমই পরোক্ষভাবে মানসিক শ্রমকে প্রভাবিত করে, কৃষক যদি জমি চাষ না করে, জেলেরা যদি মাছ না ধরে, ধোপারা যদি কাপড় না ধোয়, ঝাড়ুদার যদি ময়লা পরিষ্কার না করে, তবে আমাদের সব মানসিক শ্রমই বৃথা যাবে। নিজ হাতে পরিশ্রমের মধ্যে কোনো অগৌরব নেই। নিজের পরিশ্রমই মানুষের ভাগ্য গড়তে সহায়তা করে। পৃথিবীতে এমন অনেক বড় মাপের মানুষের দৃষ্টান্ত আছে যাঁরা নিজের কাজ নিজেই করেছেন। পক্ষান্তরে, যারা কাজকে ফাঁকি দিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয়, জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে সচেতন হতে চায় না। তাদের জীবনে প্রকৃত অর্থে গৌরব করার কিছু নেই। অজ্ঞতা মানুষকে অন্ধ করে, ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা দেয় না এবং মানুষকে বিভিন্ন কুসংস্কারে আবদ্ধ করে রাখে। মিথ্যা মানুষকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। মিথ্যার ওপর নির্ভর করে কোনো সফলতা অর্জন করা যায় না। কাজেই জ্ঞান ও সততার সাথে নিজ হাতে কাজ করার কোনো অগৌরব নেই, বরং অগৌরব হলো মিথ্যায়, মূর্খতায়।

মন্তব্য: যারা মূর্খ তারাই কায়িক শ্রমকে অগৌরব মনে করে। অন্যদিকে বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তিরা কাজ করার মধ্যেই গৌরব খুঁজে পান।


শিক্ষাগার

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে লাখো শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment