হামদ কবিতার মূলভাব :
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের তথা সপ্তদশ শতকের যে কয়জন কবি বাংলা ভাষায় বিশেষ অবদান রেখেছেন মহাকবি সৈয়দ আলাওল তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর বিখ্যাত অনুবাদ কাব্য ‘পদ্মাবতী’ শীর্ষক গ্রন্থ থেকে ‘হামদ’ কবিতাটি গৃহীত হয়েছে। কাব্য শুরু করার প্রথমেই কবি এক ও অদ্বিতীয় সৃষ্টিকর্তার প্রশস্তিকীর্তন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ।
আল্লাহ তায়া’লা জীবদানে সংসার সৃষ্টি করেছেন। তিনি আলোর প্রকাশ ঘটিয়েছেন । আগুন, বায়ু, পানি, মাটি ও পৃথিবী, বেহেশত ও দোজখ প্রভৃতি তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তিনি চোদ্দটি ভুবন তৈরি করে সূর্য, চন্দ্র, দিন ও রাত্রি, সারি সারি তারকা, শীত, গ্রীষ্ম, রৌদ্র ও ছায়া সবই দিয়েছেন, মেঘে আবার বিদ্যুৎও সঞ্চার করেছেন ।
সমুদ্র, মেরুদেশ, বন, গাছপালা, নানা ফলমূল তিনিই সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সৃষ্টি করে তাকে মহত্ত্ব দান করেছেন তিনি এবং মানুষের ভোগের জন্য খাদ্যও দিয়েছেন। মনিব-ভৃত্য, ধনী-দরিদ্র, গুণহীন ও গুণী এবং সবকিছুকেই তিনিই সৃষ্টি করেছেন। নিজেকে প্রচার করার জন্য যেমন জীবন সৃষ্টি করেছেন, তেমনি মৃত্যুও তাঁরই সৃষ্টি ।
আরও পড়ুন : হামদ কবিতার mcq(জ্ঞান,অনুধাবন,প্রয়োগ, উচ্চতর দক্ষতা)
হামদ কবিতার নামকরণ :
‘হামদ’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা : নামকরণ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । নামকরণের মাধ্যমে একদিকে যেমন সাহিত্যের বিষয়বস্তু স্পষ্ট হয়ে ওঠে, অন্যদিকে একটি সুন্দর নাম পাঠকচিত্তকে আকর্ষণ করতে পারে। সাহিত্যের নামকরণ একটি বিশেষ আর্ট বা কলা । এদিক থেকে নামকরণের গুরুত্ব অত্যধিক। মনীষী ক্যাভেন্ডিস বলেছেন-‘একটা সুন্দর নাম অনেক সম্পদের চেয়েও উত্তম।’
রচনার প্রকৃতি অনুসারে নামকরণ করা আবশ্যকীয় । সাধারণত বিষয়বস্তু, মূল বক্তব্য, কেন্দ্রীয় চরিত্র, ভাববস্তু বা অর্ন্তনিহিত তাৎপর্যের ওপর ভিত্তি করে রচনার নামকরণ করা হয়ে থাকে। ‘হামদ’ কবিতার নামকরণ বিষয়বস্তুর অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। ‘হামদ’ শব্দের সাধারণ অর্থ প্রশংসা। বিশেষ অর্থ মহান আল্লাহর প্রশংসা। কবি তাঁর কাব্য শুরু করতে গিয়ে আল্লাহর বন্দনা গেয়ে শুরু করেছেন ।
পরম, দয়ালু আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোন শরীক নেই। আদিকাল থেকে মহান সৃষ্টিকর্তা আছেন এব থাকবেন । তাঁকে কেউ জন্ম দেয়নি । তিনিও কাউকে জন্ম দেন নি । মহান স্রষ্টা তাঁর অপার মহিমা প্রচারের জন্য এ বিশ্বচরাচরে মানবজাতি সৃষ্টি করেছেন । তিনিই আগুন, বাতাস, পানি, মাটি, বেহেশত, দোজখ, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, জীব-জন্তু, পশু- পাখি ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন।
আরও জানুন : ফেরা কবিতার মূলভাব, নামকরণ ও mcq
তিনি এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে অত্যন্ত উত্তম করে সাজিয়েছেন। তিনি সবই সৃষ্টি করেছেন মানব জাতির কল্যাণার্থে। কবি ‘হামদ’ কবিতায় যাবতীয় সৃষ্টির উল্লেখ করে পক্ষান্তরে স্রষ্টার গুণগান করে প্রশান্তিতে চোখ বুঝেছেন । সুতরাং সাহিত্যিক বিচার-বিশ্লেষণে আলোচ্য কবিতার নাম ‘হামদ’ সার্থক, সুন্দর ও তাৎপর্যমণ্ডিত হয়েছে।