রাসূল সাঃ এর উপর দরূদ পাঠের ফযিলত ও দরূদ পাঠ না করার পরিণাম

মানুষ মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ মাখলুক। আর মহান আল্লাহর মাহবুব আমাদের নবী মুহাম্মদ (স) হলেন শ্রেষ্ঠ মানুষ। এই শ্রেষ্ঠ মানুষ প্রিয়নবী মুহাম্মদ (স)-এর ওপর দরূদ করা উম্মতের জন্য এক মহান ইবাদত এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম উপায়। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

দরূদ পাঠ না করার পরিণাম :

১. আল্লাহর লানত বর্ষিত হয় : রাসূল (স)-এর ওপর দরূদ পাঠ করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক। যে ব্যক্তি রাসূলের প্রতি দরদ পাঠ করে না, তার প্রতি আল্লাহর লানত বর্ষিত হয়।

২. বান্দার আমল কবুল হয় না : দরূদ পাঠ না করলে বান্দার কোনো আমল আল্লাহর পর্যন্ত পৌছে না। দোয়াকারীর দোয়া ও আল্লাহ তায়ালার মাঝে পর্দা থাকে যতক্ষণ না রাসূল (স)-এর ওপর দরূদ পাঠ করা হয়। যখন দরূদ পাঠ করা হয়, তখন পর্দা ছিন্ন হয়ে বান্দার দোয়া মহান আল্লাহর নিকট পৌছে যায়। আর যদি দরূদ পাঠ করা না হয়, তবে দোয়া পুনরায় দোয়াকারীর নিকট ফিরে আসে।

৩. মহান আল্লাহর নির্দেশের অবমাননা : রাসূলের প্রতি দরূদ পাঠ করতে আল্লাহ মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন— يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيْمًا অর্থাৎ, “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরাও তাঁর ওপর সালাত তথা দরূদ পাঠ কর এবং সম্মানের সাথে যথাযথভাবে সালাম পেশ কর।” সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূলের প্রতি দরূদ পাঠ করবে না সে সরাসরি মহান আল্লাহর নির্দেশকে অমান্য করবে। আর আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার পরিণতি ভয়াবহ।

৪. আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হয় : যে ব্যক্তি মহানবী (স) এর ওপর দরূদ পাঠ করে না সে মহান আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত হয়। কারণ যে ব্যক্তি দরূদ পাঠ করে তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। যেমন মহানবী (স) বলেন—যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে তার ওপর আল্লাহ দশটি রহমত নাযিল করেন।

৫. রাসূলের নৈকট্য লাভে বঞ্চিত হবে : যে ব্যক্তি বেশি বেশি রাসূল (স)-এর ওপর দরূদ পাঠ করে সে কেয়ামত দিবসে তাঁর নিকটে অবস্থান করবে; কিন্তু যে ব্যক্তি দরূদ পাঠ করবে না, সে এ সুযোগ হতে বঞ্চিত হবে।

আরো পড়ুন : দোয়া অর্থ কি ? কাকে বলে। দোয়ার আদব ও গুরুত্ব বিস্তারিত

দরূদ পাঠের ফযিলত :

ইসলামে দরূদ পাঠের ফযিলত অনেক। নিম্মে কয়েকটি পেশ করা হলো—

দরূদ পাঠ একটি ইবাদত : দরূদ পাঠ একটি বড় ধরনের ইবাদত ও আল্লাহর নির্দেশ পালনও বটে। দরূদ পাঠের নির্দেশ প্রদান করে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন— يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيْمًا অর্থাৎ, হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর প্রতি দরূদ পড় এবং সালাম পাঠাও। (সূরা আহযাব : আয়াত- ৫৬)

রাসূল (স)-এর নৈকট্য লাভ : দরূদ পাঠকারী কেয়ামত দিবসে রাসূল (স)-এর নৈকট্য লাভে ধন্য হবে। যেমন মহানবী (স) ইরশাদ করেন—কেয়ামতের দিন সে ব্যক্তি আমার খুব নিকটে থাকবে, যে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরদ পাঠ করবে।

৩. রহমত লাভের মাধ্যম : দরূদ পাঠের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়। যেমন রাসূল (স)-বলেন— অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ শরীফ পড়বে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত বর্ষণ করবেন।

৪. গুনাহ থেকে মুক্তি লাভ : দরূদ পাঠের মাধ্যমে বান্দা তার গুনাহ হতে মুক্তি লাভ করতে পারে। বান্দা রাসূল (স)-এর ওপর দরূদ পাঠ করলে আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। যেমন রাসূল (স)-এর বাণী—

مَنْ صَلّٰى عَلَيَّ عَشْرًا خُطَّ عَنْهُ عَشْرُ خَطِيْئَاتٍ.

(একবার দরূদ পাঠ করলে) দশটি গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। অন্য এক হাদীসে এসেছে, হযরত উবাই ইবনে কাব (রা) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! “আপনার ওপর আমি বেশি বেশি দরূদ পড়ি। কতক্ষণ দরূদ পড়ব আমি আপনার জন্য? নবী করীম (স) বললেন, তোমার ইচ্ছা। আমি বললাম, একচতুর্থাংশ সময়। নবী করীম (স) বললেন, তোমার ইচ্ছা, তবে আরও বেশি হলে ভালো।

আরো পড়ুন : মিরাজ এর অর্থ, সংজ্ঞা, সংক্ষিপ্ত ঘটনা ও সংঘটনের সময়কাল

আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক। নবী করীম (স) বললেন, তোমার ইচ্ছা, তবে আরও বেশি হলে ভালো। আমি বললাম, তাহলে দুই তৃতীয়াংশ। নবী করীম (স) বললেন, তোমার ইচ্ছা, তবে বেশি হলে ভালো। তিনি বললেন, তবে আমি আপনার জন্য পুরো সময়টাই দরূদ পড়ব। নবী করীম (স) বললেন, তাহলে তোমার চাহিদার জন্য যথেষ্ঠ হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করা হবে। (তিরমিযী, হাকেম ও আহমাদ)।

৫. মর্যাদা বৃদ্ধি পায় : যে ব্যক্তি রাসূল (স)-এর ওপর দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তার মর্যাদা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন। যেমন রাসূল (স)-এর বাণী— وَرُفِعَتْ لَهُ بِهَا عَشْرُ دَرَجَاتٍ অর্থাৎ, (একবার দরূদ পাঠের মাধ্যমে) তার মর্যাদা দশগুণ আল্লাহ বৃদ্ধি করে দিবেন।

শিক্ষাগার

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে লাখো শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment