আল্লাহ তায়ালার নিকট কোনো কিছু প্রার্থনা করার একটি মাধ্যম হলো দোয়া(دُعَاءٌ)। দোয়া কবুল হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মনীতি তথা আদবের অনুসরণ আবশ্যক। নিচে এ সংক্রান্ত আলোচনা প্রদত্ত হলো।
দোয়া অর্থ কি ?
আভিধানিক অর্থ: دُعَاءٌ শব্দটি বাবে نَصَرَ-এর মাসদার। আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দটি বেশ কয়েকটি অর্থে ব্যবহার হয়। যেমন—
- النِّدَاءُ তথা আহ্বান করা।
- الدَّعْوَةُ তথা ডাকা।
- السُّؤَالُ তথা চাওয়া।
- طَلَبُ الْعَوْنِ তথা সাহায্য কামনা করা।
- নিমন্ত্রণ করা।
- দোয়া করা।
দোয়া কাকে বলে ?
دُعَاءٌ-এর পারিভাষিক সংজ্ঞা বর্ণনায় মনীষীগণ বিভিন্ন বক্তব্য পেশ করেছেন। যেমন—
১। পরিভাষায় দোয়া হলো এরূপ গঠনমূলক কথা, যা বিনয়ের সাথে প্রার্থনার ওপর ইঙ্গিত করে। আর একে সুয়াল বা প্রার্থনা করে নামকরণ করা হয়।
২. আল মুজামুল ওয়াসীত প্রণেতা বলেন— الدُّعَاءُ مَا يُدْعَى بِهِ اللهُ مِنَ الْقَوْلِঅর্থাৎ, যে কথার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নিকট কোনো কিছু প্রার্থনা করা হয়, তাকে দোয়া বলে।
৩. মানুষ যখন তার দুঃখ বেদনা, অবসাদের কোনো সমাধান খুঁজে না পায়, চতুর্দিকে অন্ধকার দেখে তখন তার একমাত্র আশ্রয়স্থল মাবুদের দরবারে যে আরযী পেশ করে, আকুতি জানায় বা দয়া ও অনুগ্রহ লাভের জন্য বিনয়ের সাথে যে আহ্বান ও আবেদন জানায় এবং তাঁকে কায়মনোবাক্যে ডাকে, তাকেই পরিভাষায় দোয়া বলা হয়।
আরো পড়ুন : রাসূল সাঃ এর উপর দরূদ পাঠের ফযিলত ও দরূদ পাঠ না করার পরিণাম
দোয়ার আদব :
দোয়ার অনেক আদব রয়েছে। যেমন—
- দোয়া করার জন্য বিশেষ বিশেষ সময়ের তালাশে থাকা।
- অযুর সাথে নম্রতার অত্যন্ত বিনয় সহকারে কেঁদে কেঁদে আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করা।
- প্রথমে আল্লাহ তায়ালার হামদ ও রাসূল (স.)-এর প্রতি দরদ পাঠ করে দোয়া আরম্ভ করা।
- আনুষ্ঠানিক ও ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত দোয়াসমূহে হাত তুলে দোয়া করা।
- পবিত্র কুরআন ও হাদীসে উল্লিখিত মাসনুন দোয়াসমূহের মাধ্যমে দোয়া করা।
- আনুষ্ঠানিক দোয়া, কারো উন্নতি, রোগমুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে হাত উঠিয়ে দোয়া করা।
- পিতামাতার জন্য কায়মনোবাক্যে দোয়া করা এবং সর্বোত্তম নেয়ামত মহানবী (স.)-এর জন্য আযানের পর হাত উঠিয়ে দোয়া করা।
দোয়ার গুরুত্ব :
ইসলামে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআন ও হাদীসে দোয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেমন—
১. আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন— اُدْعُوْنِيْ أَسْتَجِبْ لَكُمْঅর্থাৎ, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।
২. আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র ইরশাদ করেন—
إِذَا سَأَلَكَ عِبَادِيْ عَنِّيْ فَإِنِّيْ قَرِيْبٌ أُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
অর্থাৎ, যখন আমার বান্দা আপনার নিকট আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তখন আপনি বলুন, আমি নিকটে আছি। যখন আমাকে কেউ ডাকে আমি তার ডাকে সাড়া দেই।
আরো পড়ুন : মানত কাকে বলে ? এর অর্থ, শর্তাবলী, হুকুম ও বিধান
মহানবী (স.)-ও দোয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। যেমন তিনি বলেন—
১. اَلدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ অর্থাৎ, দোয়া ইবাদত।
২. مَنْ لَمْ يَسْأَلِ اللهَ يَغْضَبُ عَلَيْهِ অর্থাৎ, যে আল্লাহ তায়ালার কাছে চায় না, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রাগান্বিত হন।
৩. اَلدُّعَاءُ مُخُّ الْعِبَادَةِ অর্থাৎ, দোয়া ইবাদতের মূল।
৪. لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللهِ مِنَ الدُّعَاءِ অর্থাৎ, আল্লাহর নিকট দোয়ার চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ কোনো কিছু নেই।
৫. لَا يَرُدُّ الْقَضَاءَ إِلَّا الدُّعَاءُ অর্থাৎ, দোয়া ব্যতীত সমস্যার সমাধান হয় না।
পরিশেষে : কোন কোন ক্ষেত্রে দোয়া করার সুন্নত। যেমন মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। পিতা মাতার জন্য দোয়া করতে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা শিখিয়ে দিয়েছেন-
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
অর্থাৎ হে আল্লাহ! উভয়ের প্রতি রহম করুন। যেভাবে ছোট সময় তারা আমার প্রতি দয়া করেছেন। অতএব আমাদের সমস্যা সমাধানকল্পে দোয়ার আদব মেনে আল্লাহতালার নিকট দোয়া করা একান্ত কর্তব্য।