উপস্থাপনা :
দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও লক্ষ জনতার জীবনদানের এক রক্তিম ইতিহাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। এটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭১ সালে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক সাগর রক্ত ও লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা। অবশেষে নয় মাস সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের পর উদিত হয় স্বাধীন বাংলার নবীন সূর্য।
ব্রিটিশ শাসন :
বাঙালির প্রাচীন ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। একদিন এদেশে ছিল গোয়াল ভরা গরু, গলা ভরা গান, পুকুর ভরা মাছ, গোলা ভরা ধান। বাংলার সম্পদের লোভে ব্রিটিশ বেনিয়ারা এদেশে আস্তানা গড়ে এবং এক সময় ক্ষমতাও হস্তগত করে নেয়। তিতুমীর, হাজী শরিয়তউল্লাহ, ফকির মজনু শাহ, মাস্টারদা সূর্য সেন, ক্ষুদিরাম একে একে অনেকেই দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেন। রেখে গেল শুধু এক নগ্ন ধ্বংসস্তূপ।
পাকিস্তান আমল ও বৈষম্য :
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের মধ্য দিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত হলো বাংলাদেশ, যার নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা শোষণ ও বঞ্চনার মাধ্যমে এদেশকে পাকিস্তানের একটি উপনিবেশে পরিণত করে। এদেশের টাকা দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে মিল ফ্যাক্টরি হয়েছে, অথচ এদেশ শূন্যই রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি সর্বক্ষেত্রে ছিল তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য। এসব দেখে ক্ষুব্ধ বাঙালি স্বাধিকারের স্বপ্ন দেখতে থাকে।
ভাষা আন্দোলন :
পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে ১৯৫২ সালে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ও ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বাঙালিরা তাদের জাতীয়তাবাদের প্রথম বিজয় সূচনা করে। তারপর অনুষ্ঠিত হয় ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন।
ছয় দফা ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা :
বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপিত হয়। বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতাকে দমন করার জন্য পাকিস্তানিরা নানা ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। তাই তারা মিথ্যা মামলায় ঝুলিয়ে দিল শেখ মুজিবকে। ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁকে কারাগারে আটক করা হয়। এই লাঞ্ছনায় সমস্ত বাঙালি প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে। জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সরকার তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান :
১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়। গণআন্দোলনের মুখে জেনারেল আয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর জেনারেল ইয়াহিয়া খান পুনরায় সামরিক শাসন জারি করেন। তিনি ঘোষণা করলেন, শীঘ্রই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সামরিক বাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।
১৯৭০-এর নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি :
ইয়াহিয়া খানের ঘোষণানুযায়ী ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানিরা তাদের হাতে ক্ষমতা দিতে অস্বীকার করে। ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করেন। জুলফিকার আলী ভুট্টো এসে বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ-আলোচনা করে পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যান। কিন্তু ইয়াহিয়া খান হঠাৎ ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
অসহযোগ আন্দোলন :
১ মার্চের এই ঘোষণায় পূর্ব পাকিস্তানের জনতা হতবাক হয়ে যায়। তারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সকল অফিস-আদালত, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং স্বাধীনতা আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে।
৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ :
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের ডাক দেন। তিনি ঘোষণা করেন—
- সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে।
- অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
- সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে।
- জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের পূর্বেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
তিনি বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” তিনি আরও বলেছিলেন, “তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়।” তাঁর এ ডাকে সমগ্র বাঙালি সাড়া দিল।
আলোচনার প্রহসন :
১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে ১৬ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে বৈঠকে বসেন। তিনি ভুট্টো সাহেবকেও ঢাকায় ডেকে পাঠান। দীর্ঘ দশ দিন আলোচনা চলে। এ আলোচনা ছিল প্রহসন মাত্র। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক সৈন্য ও অস্ত্র এদেশে পাঠানো হতে থাকে।
২৫ মার্চের কালরাত্রি :
আলোচনার নামে এই প্রহসনের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন শুরু হলে ইয়াহিয়া খান তা চিরতরে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে ২৫ মার্চ গভীর রাতে জনগণের ওপর সেনাবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে পাড়ি জমান। পাক হানাদার বাহিনী মারণাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় ঢাকার বুকে ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা নির্মম হত্যাকাণ্ড। “মাটি চাই, মানুষ চাই না”— এই দমননীতির ক্রোধে উত্তেজিত হানাদার বাহিনী এক পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। শহরে-নগরে, গ্রামে-গঞ্জে তারা আক্রমণ চালায়, ধর্ষণ করে, পুড়তে থাকে দোকানপাট।
বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতার ও স্বাধীনতা ঘোষণা :
ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয় বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে গ্রেফতারের পূর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ওয়্যারলেস বার্তায় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেন। ইপিআর, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, সশস্ত্র পুলিশ, আনসার, ছাত্র-যুবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।
মুজিবনগর সরকার গঠন :
১০ এপ্রিল ১৯৭১ নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্যরা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে বন্দি থাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করেন।
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। বৈদ্যনাথতলার নাম পরে মুজিবনগর রাখা হয়। এই সরকারের নাম থেকেই এটি মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত হয়।
মুক্তিবাহিনী গঠন :
অস্থায়ী সরকার গঠনের পর মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়। কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। জেনারেল ওসমানী একটি বিরাট গেরিলা বাহিনী ও নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠন করেন। এর সাথে তিনি বিমান বাহিনীও গঠন করেন, যা ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম ও ঢাকায় প্রথম বিমান হামলা চালায়।
শরণার্থী শিবির ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ :
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। তাদের ঠাঁই হয় শরণার্থী শিবিরে। সেখান থেকে আগ্রহী ও উপযুক্ত লোকদের বাছাই করে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেক্টর কমান্ডারদের অধীনে তারা গেরিলা ও সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পর্যুদস্ত ও হীনবল করে ফেলে। গ্রাম ও শহরের মানুষ আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসাসেবাসহ নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে।
আন্তর্জাতিক সমর্থন :
ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়ার জনগণ ও সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সরাসরি সমর্থন করে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি প্রভৃতি দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিল্পী-সাহিত্যিক নানাভাবে অকুণ্ঠ সাহায্য-সহযোগিতা করেন। ভারত অস্ত্র, সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনেক দূর এগিয়ে দেয়। সোভিয়েত রাশিয়া ভেটো প্রয়োগ করায় জাতিসংঘ যুদ্ধ থামানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়। ফলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নাজুক অবস্থায় পড়ে মনোবল হারিয়ে ফেলে।
মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ :
১৯৭১ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে মুক্তিযুদ্ধ তীব্রতর হয়ে ওঠে। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের ওপর বিমান হামলা চালায়। তখন ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৪ ডিসেম্বর থেকে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী যৌথভাবে হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়তে শুরু করে। ৬ ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেন। মুক্তিবাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে ভীত-সন্ত্রস্ত হানাদার বাহিনী গ্রামাঞ্চল ছেড়ে শহরে পালাতে থাকে। যৌথ আক্রমণে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত হয়।
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ ও চূড়ান্ত বিজয় :
যৌথবাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা ১ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হানাদার বাহিনী বিনা শর্তে যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। লেঃ জেনারেল নিয়াজী তাঁর ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রসহ যৌথ বাহিনীর প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তিনি নিজ পোশাক থেকে সামরিক ব্যাজগুলো খুলে অবনত মস্তকে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব :
মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ মানুষের জীবনদান, দুই লাখ নারীর সম্ভ্রম ও কোটি কোটি টাকার সম্পদের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ত্যাগের সম্মানস্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘বীরউত্তম’, ‘বীরবিক্রম’ ও ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব দেওয়া হয়েছে। সাতজন বীর শহিদ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব পেয়েছেন। তাঁরা হলেন— সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, ল্যান্সনায়েক মুন্সী আবদুর রউফ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ, সিপাহি হামিদুর রহমান, ইঞ্জিনরুম আর্টিফিশার রুহুল আমিন ও ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
উপসংহার :
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায়। এ অধ্যায় বড় উজ্জ্বল, অত্যন্ত বেদনা ও আনন্দের। মুক্তিযুদ্ধ থেকেই বাঙালির সত্তায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের চেতনা জন্ম নেয়। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর লক্ষ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। নিজেকে নিজের মতো করে বিকশিত করার সুযোগ পাচ্ছি এই স্বাধীনতার কারণেই। তাই আমরা আমাদের স্বাধীনতার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখব এবং স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।