সূচনা :
বৃক্ষ বা গাছ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। মানবজাতির কল্যাণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের অবদান অসামান্য। এ ব্যাপারে সমগ্র বিশ্বই আজ সচেতন। বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব বুঝতে পেরে আমাদের দেশেও স্লোগান উঠেছে, ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’।
রোপণের উপযুক্ত সময় :
জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময়। কারণ, এ সময় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় যা চারা গাছকে টিকে থাকতে সহায়তা করে।
বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা :
আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে গাছের অবদান অপরিসীম। গাছ থেকেই আমরা পাই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল, সুগন্ধি ফুল, জীবনধারণের জন্য খাদ্যশস্য, কাপড় তৈরির তুলা, বাড়িঘর ও আসবাবপত্র নির্মাণের প্রয়োজনীয় কাঠ। বৃক্ষ জীবন দানকারী অক্সিজেন দেয় এবং বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। গাছ থেকে জীবনরক্ষাকারী নানারকম ওষুধ তৈরি হয়। গাছ পৃথিবীকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে।
বাংলাদেশের বনাঞ্চল :
একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক। কিন্তু বাংলাদেশে বনভূমি আছে শতকরা ১৭ ভাগের নিচে। যেটুকু বনভূমি রয়েছে একশ্রেণির মানুষের লোভ ও দুর্নীতির কারণে তা-ও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা :
যথেষ্ট নতুন গাছ না লাগিয়ে শুধু কেটে ফেলা হলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। এতে জীবনের অস্তিত্ব – হুমকির মুখে পড়বে। এ জন্য সবাইকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে হবে। বৃক্ষরোপণ অভিযান সফল করার জন্য সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকার বৃক্ষের চারা উৎপাদন করে বিনামূল্যে জনগণের মধ্যে বিতরণ করে থাকে।
উপসংহার :
মানুষ ও প্রাণিকুলের জন্য বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ পদক্ষেপ। এ অভিযান সফল হলে আমাদের জীবন ও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশ ভরে উঠবে সবুজের সমারোহে।