কাজী নজরুল ইসলাম রচনা (ক্লাস ৬-১০)

সূচনা :

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর কবিতা, গান ও গদ্যে পরাধীন ভারতের নিপীড়িত মেহনতি জনতার মুক্তির বাণী ধ্বনিত হয়েছে। তিনি আমার প্রিয় কবি।

জন্ম ও বাল্যকাল :

১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কাজী ফকির আহমদ এবং মাতার নাম জাহেদা খাতুন। তাঁর জন্মের পূর্বে পর পর তাঁর চার ভাই মারা যায়। এজন্যই পিতা মাতা তাঁকে দুখুমিয়া বলে ডাকতেন। মাত্র আট বছর বয়সে নজরুল পিতৃহীন হন। আর্থিক অনটনে তিনি বিভিন্ন পেশায় যোগ দেন।

শিক্ষাজীবন :

গ্রামের মক্তবে নজরুলের শিক্ষা জীবন শুরু হয়। এখানে তিনি বাংলা ছাড়াও আরবি ও ফারসি ভাষায় জ্ঞান লাভ করেন। এ সময় তিনি গান বাজনা ও পালাগানের দলে জড়িয়ে পড়েন। নজরুলের চাচা ছিলেন এক লেটোর দলের ওস্তাদ কবি, আর নজরুল ছিলেন তার উপযুক্ত শিষ্য।

বাড়ি হতে পালিয়ে নজরুল আসানসোলের এক রুটির দোকানে পাঁচ টাকা বেতনে চাকরি নিলেন। এ সময় তিনি এক দারোগার সাথে ময়মনসিংহ ত্রিশালে চলে আসেন। নজরুলের বুদ্ধি দীপ্ততে বিমোহিত হয়ে তিনি তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু স্কুলে তার লেখা-পড়া বেশি দিন স্থায়ী হল না।

সৈনিক জীবন :

কবি যখন দশম শ্রেণীর ছাত্র তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। তিনি তখন দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং স্বল্প সময়ে হাবিলদার পদে উন্নীত হন।

জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন :

যুদ্ধ শেষে তিনি দেশে ফিরে এসে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নজরুলের সম্পাদনায় নবযুগ ও ধূমকেতু নামক দুটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রাজদ্রোহীতার দায়ে জেলে প্রেরণ করেন। জেল থেকে তিনি বিপ্লবী ও বিদ্রোহাত্মক নানা গান রচনা করে বন্দীদেরও খেপিয়ে তোলেন। নজরুলের লড়াই ছিল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। তিনি সাম্যবাদের প্রবক্তা।

কবি জীবন :

১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি বিজলা পত্রিকায় তাঁর বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হয়। ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে রাতারাতি তাঁর কবিখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কবিতা ছাড়াও গল্প, উপন্যাস, নাটকে তিনি অপূর্ব দক্ষতা দেখিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর অবিস্মরণীয় সৃষ্টি হলো প্রায় চার হাজারের মতো গান। তিনিই বাংলা গজলের প্রবর্তক।

সাহিত্যকর্ম :

  • কাব্যগ্রন্থ: অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশী, সাম্যবাদী, সর্বহারা, ছায়ানট, ভাঙ্গার গান, প্রলয় শিখা, দোলন চাঁপা, চক্রবাক, বুলবুল, ঝিঙ্গেফুল
  • উপন্যাস: ব্যথার দান, বাঁধন হারা, মৃত্যু ক্ষুধা
  • নাটক: আলেয়া, মধুমালা, ঝিলিমিলি

গুণাবলি :

কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সত্য ও সুন্দরের পথে অবিচল। অসত্য ও অন্যায়ের সাথে তিনি কখনো আপস করেননি। জীবনে নানা বাধা-বিপত্তি, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তবুও সত্যের পথ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।

আমার প্রিয় মানুষ :

পরাধীন ভারতবর্ষকে ব্রিটিশ অপশাসন থেকে মুক্ত করতে তিনি সংগ্রাম করেছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নিবন্ধে তিনি মানবতার জয়গান গেয়েছেন। শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল উচ্চকিত। এ রকম দৃঢ় ও আপসহীন চরিত্রের কারণেই তিনি আমার প্রিয় মানুষ।

মৃত্যু :

১৯৪২ সালে তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর তিনি ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। কবির ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

উপসংহার :

নজরুল একাধারে কবি, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গায়ক ও সম্পাদক ছিলেন। নিপীড়িত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত মানুষের জন্য তাঁর কণ্ঠ ছিল সোচ্চার। তাই আজও আমরা তাঁকে আমাদের হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা জানাই।


Author

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment