নারী শিক্ষার গুরুত্ব রচনা ২০ পয়েন্ট | SSC HSC

পোস্ট সূচিপত্র সমূহ

ভূমিকা : 

মানুষের মনুষ্যত্ব বিকাশে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। ‘নারী’ হোক বা ‘পুরুষ’ হোক তাদের বড় পরিচয় হলো তারা মানুষ। নারীদের মনুষ্যত্ব বিকাশের জন্য, উৎকৃষ্ট মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য শিক্ষার প্রয়োজন অনস্বীকার্য। একটি আদর্শ জাতির জন্য আদর্শ মা প্রয়োজন, চিরন্তন এ সত্যকে অস্বীকার করলে চলবে না।

মা যদি শিক্ষিত না হয়, তাহলে সন্তান শিক্ষিত হবে না। সন্তান শিক্ষিত না হলে স্বাভাবিকভাবেই জাতির ভবিষ্যৎ হয় অন্ধকার। নারীশিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। সভ্যতার চরম উৎকর্ষের বহুমাত্রিক সুযোগ-সুবিধার চূড়ান্ত ব্যবহার করতে নারীশিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা : 

জাতির সামগ্রিক কল্যাণের জন্য নারীশিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে দ্বিমতের অবকাশ নেই। আমাদের দেশের জনসংখ্যার অধিকাংশই নারী, সেহেতু নারীকে শিক্ষিত করে তুলে দেশের উন্নতির জন্য অনগ্রসরতার অভিশাপ থেকে নারীসমাজকে উদ্ধার করে পুরুষের পাশাপাশি পথ চলার অধিকার ও সুযোগ করে দিতে হবে। কারণ জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারী কল্যাণকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর প্রভাব :

একজন সুশিক্ষিত মাতা তার সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে নিজ আদর্শে গড়ে তুলতে পারে। কারণ ছেলে-মেয়েদের ওপর মায়েদের প্রভাবই বেশি পড়ে। মায়ের কাছ থেকে তারা আচার-আচরণ, আদব-কায়দা ইত্যাদি শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের প্রভাব সম্বন্ধে বলতে গিয়ে নেপোলিয়ান বলেছিলেন, ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদিগকে একটি শিক্ষিত জাতি দিব।’ তাই নারীদের শিক্ষাগ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।

স্বাবলম্বিতা অর্জন :

স্বাবলম্বিতা অর্জনের ক্ষেত্রে নারীশিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাচীনকালে নারীরা সবকিছুর জন্য তাদের স্বামীদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তারা ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিত। গৃহের মধ্যেই তাদের কার্যাদি সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষিকা, পুলিশ অফিসার, পাইলটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নারীরা কাজ করছেন। সুতরাং আজ আর নারীকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। তাই কবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে হয়-

“সে যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল নাকো,
নারীরা ছিল দাসী।”

গৃহস্থালি কাজে নারী :

গৃহস্থালি কাজের দিকে তাকালেও দেখা যায়, নারীশিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষিত নারী পুত্র-কন্যাদের অসুখ-বিসুখে যে সেবা ও সংসারের প্রতিদিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ করতে পারে, অশিক্ষিত নারীরা সেভাবে করতে পারে না। শিক্ষিত নারী তার শিক্ষা, মেধা ও চিন্তাশক্তির সাহায্যে সংসারে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে পারে। তাই জ্ঞান সাধনা ও বুদ্ধির বিকাশে পুরুষের পাশাপাশি নারীকে সুযোগ করে দিতে হবে।

দেশ গঠনে নারী :

অতীতে দেশ গঠনে নারীদের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। বর্তমানেও দেশ গঠনে নারীরা যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যতটি আন্দোলন হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে নারীদের কিছু না কিছু অবদান রয়েছে। আর এ অবদান রেখেছে শুধু শিক্ষিত নারীরাই । তাই দেশ গঠনে নারীশিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে নারী শিক্ষা :

বাংলাদেশ পৃথিবীর মধ্যে একটি জনবহুল দেশ এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এদেশের প্রধান সমস্যা। আর এ সমস্যার পেছনে একটি বড় কারণ হলো নারীশিক্ষার অভাব । নারীশিক্ষার অভাবে এদেশের গ্রামবাংলার ১২/১৩ বছরের বালিকারা বিয়ের মাধ্যমে সন্তান উৎপাদনের যন্ত্রে পরিণত হয়।

অল্প বয়সে সন্তান জন্মদান মা ও শিশু উভয়ের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে মায়ের স্বাস্থ্য নষ্ট হয় এবং সন্তানও দুর্বল, রোগাক্রান্ত ও মেধাহীন হয়। নারী শিক্ষিত হলে উপযুক্ত বয়সে বিয়ে করবে, সীমিত সংখ্যক সন্তান গ্রহণ করবে এবং নিজের ও সন্তানের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পারবে ।

নারী শিক্ষার অন্তরায় :

বাংলাদেশসহ অনুন্নত দেশগুলোতে নারীশিক্ষার অন্তরায় হচ্ছে কুসংস্কার আর ধর্মীয় গোঁড়ামি। এছাড়া নারীশিক্ষার একটা বিশেষ বাধা হচ্ছে দারিদ্র্য ও নিরাপত্তার অভাব। নিরাপত্তার অভাবে অনেক অভিভাবকই তাদের কন্যাসন্তানদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে ভয় পান। আর এতে করে ব্যাহত হচ্ছে নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রা। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের অসচেতনতাও নারীশিক্ষার অন্তরায় সৃষ্টি করে থাকে ।

নারী শিক্ষা বিস্তারের উপায় :

নারীশিক্ষা বিস্তারের জন্য কতিপয় কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি। নারী শিক্ষার্থীর অনুপাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। মেয়েদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যেন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা কোনোভাবেই নির্যাতনের শিকার না হয়। বয়স্ক নারীদের শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের উপবৃত্তি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নারীশিক্ষা প্রসারে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

নারী শিক্ষা বিস্তারে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ :

“যে হাত দোলনা দোলায়, সেই হাত বিশ্ব শাসন করে”—কথাটি একেবারে সত্যি। আজ আমরা উপলব্ধি করতে পারছি যে, নারীশিক্ষার প্রসার ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। নারীশিক্ষা বিস্তারে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে উপবৃত্তি ও বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যও বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে দেশের মেয়েরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা প্রকাশ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে।

নারী-পুরুষের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা :

এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে, ‘Man cannot live alone.’- মানুষ একাকী বাঁচতে পারে না। আর নারী ছাড়া পুরুষও বাঁচতে পারে না। এ সৃষ্টি জগতে আল্লাহ সামাজিক প্রয়োজনেই নারী ও পুরুষ সৃষ্টি করেছেন। নারী ও পুরুষ পরস্পর পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। আদিম সমাজে গুহাবাসী মানুষও সমাজবদ্ধ ছিল। সেখানে নর-নারী উভয়েই সমান ভূমিকা পালন করত। সুতরাং সমাজ, দেশ, জাতি গঠনে নারী ও পুরুষের ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নারীর স্থান যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, আমাদের দেশে শিক্ষার অভাবে এখনো তা সম্পূর্ণরূপে হয়ে ওঠে নি। দেশে সামগ্রিক শিক্ষার হার কম এবং পুরুষের তুলনায় নারী শিক্ষার হার আরো কম। তাই সারাবিশ্বে আজকে নারী জাতির মুক্তির যে বাণী উচ্চারিত হয়েছে, আমাদের দেশে তা যথার্থ ফলপ্রসূ হয়ে ওঠেনি। শিক্ষার এ অনগ্রসরতার জন্য নারীরা পুরুষের সমান তালে পা ফেলতে পারেনি।প্রকৃতপক্ষে, এদেশের নারী চিরদিনই অবহেলিত।

প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আমাদের সমাজব্যবস্থা পুরুষতান্ত্রিক। তাই এখানকার নারীরা চিরকালই পুরুষদের দ্বারা শাসিত হয়ে আসছে। এদেশে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠার সময় নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কেউ অনুভব করেনি।ফলে একই পরিবারের পুরুষের শিক্ষার সুযোগ থাকলেও নারীর ক্ষেত্রে তেমন নেই। এদেশে ধর্মীয় কুসংস্কার নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যার অন্ধকার এদেশে এখনও রয়ে গেছে। এতে জাতীয় জীবনে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা এবং জাতীয় অগ্রগতি হচ্ছে ব্যাহত।

বাংলাদেশের নারীদের বর্তমান অবস্থা :

অতীতের অন্ধকার অনেকটা কেটে গেলেও আজও আমাদের সমাজে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার গুরুত্ব সমানভাবে দেখা হচ্ছে না। তবে এটা আজ দিনের আলোর মতো সত্য যে, নতুন যুগের আলোয় সব জায়গায় নারীর উন্নতির প্রশংসা করা হচ্ছে। নারী যে আর কারো বোঝা নয়, এখন তার পরিচয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যে শক্তিশালী শক্তি আড়ালে থাকা নারীকে অন্ধকার ও কঠিন অবস্থা থেকে মুক্ত করে আধুনিক জগতের আলোকিত আঙিনায় নিয়ে এসেছে তা হলো আধুনিক শিক্ষা। নিজের ভাগ্য জয় করার ন্যায়সংগত অধিকার এখন তার হাতের মুঠোয়।

উন্নত দেশে নারী :

উন্নত দেশে নারীদের অবস্থান আজ সুদৃঢ়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে তারা নারীশিক্ষার ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীতে সেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, জার্মানি, কানাডা প্রভৃতি দেশের নারীরা সব ক্ষেত্রে পারদর্শী। এসব দেশের নারীরা আজ আর পুরুষের মুখাপেক্ষী নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা পুরুষকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

সমাজের প্রেক্ষাপটে নারী :

নারী ও পুরুষ উভয়েই স্রষ্টার সৃষ্টি, মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত। তারপরও সভ্যতার এ চরম উৎকর্ষের কালে নারী তার সাধারণ মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এমনকি প্রায়ই শিকার হচ্ছে মধ্যযুগীয় নানা অমানবিক নির্যাতনের। তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশেই আজও নারী যেন পুরুষের করুণার পাত্র।

একদা কন্যা-সন্তান জন্মালে তাকে পুঁতে ফেলা হতো মাটির নিচে। কন্যা- সন্তানকে মনে করা হতো বিধাতার অভিশাপ। সব ধর্মের দৃষ্টিতে মেয়েরা ছিল ‘বিষধর সর্প’, ‘শয়তানের অস্ত্র’, ‘নরকের দ্বার’; এমনকি ধর্মকর্ম পালনেও তাদের অধিকার ছিল না।

নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা :

“তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।” একটি সুন্দর জাতি গঠনের জন্য নারীর ভূমিকা যে কত গুরুত্বপূর্ণ নেপোলিয়নের এই চিরস্মরণীয় বাণীতে তা ফুটে ওঠে। একটি শিক্ষিত জননীই জাতির ভবিষ্যৎ বংশধরদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

দেশের লোকসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই বিপুল জনগোষ্ঠী যদি অজ্ঞতার অন্ধকারে পড়ে থাকে, তবে সমগ্র জাতিই দুর্দশায় পড়বে এবং জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি বাধাগ্রস্ত হবে। সংসারের সুখও নারীর হাতে। সমাজের সামগ্রিক প্রয়োজনেও মেয়েদের উপযুক্ত শিক্ষা ও মুক্ত মানসিকতার অধিকারী করে গড়ে তোলা জরুরি।

শিক্ষিত জননী হিসেবে নারী :

শিশুর প্রথম পাঠশালা মায়ের কোল। মায়ের কাছ থেকেই সন্তান ভাষা, আচরণ ও মূল্যবোধ শেখে। একজন শিক্ষিত মা সন্তানের পড়াশোনার খোঁজ রাখেন, তার প্রতিভা চিনে সঠিক পথে এগিয়ে দেন এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়ে সচেতন থাকেন। তাই একজন আদর্শ সন্তানের পেছনে শিক্ষিত জননীর অবদানই সবচেয়ে বেশি।

নারী শিক্ষায় গৃহীত ব্যবস্থা :

বর্তমানে দেশের নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নারীসমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। তাই শতভাগ সফল না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াতে পারলে বাংলাদেশ আরও উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য উপবৃত্তি ও বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থা নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে যথেষ্ট সুযোগ এনে দিয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও মেয়েদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ফলে মেয়েদের পক্ষে সহজে লেখাপড়া করা সম্ভব হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়েও নারী শিক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। মেয়েদের শিক্ষার এই অগ্রগতি চারদিকে সহজেই লক্ষ করা যায়।

কতিপয় মহীয়সী নারীর দৃষ্টান্ত :

অতীতের গৌরবময় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বহু মুসলিম মহিলা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। হযরত মুহাম্মদ (স)-এর স্ত্রী উম্মুল মুমেনিন হযরত আয়েশা (রা) স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়েছেন বহু বীরাঙ্গনা মহিলা রণক্ষেত্রে গিয়ে আহতদের সেবা করেছেন।

মুসলিম ভারতের জাহানআরা, জেবুন্নেসা, চাঁদ সুলতানা, নূরজাহান, বেগম রোকেয়া প্রমুখ বহু নারী সাহিত্য, কাব্য, শিল্প, রাজনীতি ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। এছাড়াও নারী মুক্তির পথ প্রশস্তকারী সমাজ সংস্কারক মহামানবী মাদার তেরেসার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে দেখা রয়েছে।

পারিবারিক জীবনে শিক্ষিত নারী

পারিবারিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হলো নারী। একটি সুখী পরিবার গড়ে তুলতেও নারীর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শুধু একজন মা হিসেবে নয়, একজন স্ত্রী হিসেবেও তার ভূমিকা অনেক বড়। কারণ, পরিবারের সুখশান্তির চাবিকাঠি থাকে নারীর হাতে। তিনি তার জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা সহযোগে পারিবারিক জীবনে আনন্দের সঞ্চার করবেন।

ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে’ প্রবাদটি। কিন্তু শিক্ষার অভাব থাকলে এখানেও তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালিত হবে না। শিক্ষার আলোয় তার নিজের জীবন আলোকিত হলেই কেবল তিনি অপরের জীবনকেও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে সক্ষম হবেন ।

উপসংহার  

আমাদের সমাজে আমরা চাই আদর্শ জননী, আদর্শ গৃহিণী, আদর্শ কন্যা। আদর্শ জীবন ও সমাজ গঠনে চাই উপযুক্ত নারীশিক্ষা । নারীরাই দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক জন্ম দেয় এবং তাদের পরিচর্যা করে গড়ে তোলে। ভবিষ্যৎ শিশুর মা যদি শিক্ষিত না হয় তবে শিশুর সুনাগরিক হওয়ার পথই রুদ্ধ হয়ে যাবে। তাই নারীকে অবহেলা না করে তার শিক্ষার প্রসারে এগিয়ে এসে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ সাধন করার সুযোগ দিতে হবে।


Author

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment