ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ ভাব সম্প্রসারণ – ১
মূলভাব : ভোগের মধ্যে সুখ নেই- প্রকৃত সুখ বিরাজ করে ত্যাগের মাঝে ।
সম্প্রসারিত ভাব : ভোগ ও ত্যাগ যেন দু’টি আলাদা রাস্তা। একটি আত্মবনতির অন্যটি আত্মমুক্তির । ভোগের রাস্তায় গেলে আত্মবনতি ঘটে; ত্যাগের রাস্তায় গেলে ঘটে আত্মমুক্তি। ভোগ মানুষকে সংকুচিত করে আর ত্যাগ মানুষকে করে প্রসারিত। ভোগ মানব মনে লোভের জন্ম দেয়, লোভ থেকে আসে সীমাহীন দুঃখ । ত্যাগ মানুষকে পূর্ণতা এনে দেয়, এনে দেয় প্রশান্তি । পরের হিতার্থে যিনি নিজের জীবন বিলিয়ে দেন, পৃথিবীতে তিনি হন মহৎ, মরার পরে হন অমর ।
যারা ভোগের জন্য জীবন যাপন করে তারা শুধু পশুর মতো নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য বাঁচে। তার এ বাঁচা মৃত্যুর সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায় । যারা ত্যাগ করে তারা বাঁচে পরের জন্য; মৃত্যুর পর তারা আবার অপরের প্রাণে সজীব হয়ে ওঠে। বিশ্বের মহামানবগণ আত্মত্যাগের মাঝেই মহৎ হতে পেরেছেন ।
মন্তব্য : স্বার্থ ত্যাগের মাঝেই জীবনের চরম সফলতা। প্রতিটি মানুষের কর্তব্য ভোগ ত্যাগ করে ত্যাগকে স্বাগতম জানানো ।
আরও পড়ুন :- ভাবসম্প্রসারণ : চকচক করলেই সোনা হয় না – ৩টি
ভোগে নয় ত্যাগেই প্রকৃত সুখ ভাব সম্প্রসারণ – ২
মূলভাব : দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্যে রয়েছে ত্যাগের অনন্ত মহিমা। আর এ ত্যাগের মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত সুখ।
সম্প্রসারিত ভাব : ভোগের কোনো শেষ নেই, কোনো পরিতৃপ্তি নেই, যতই মানুষ ধনসম্পদ ভোগ করে ততই তার ভোগের ইচ্ছা বেড়ে যায়। ফলে প্রচুর ভোগের ব্যবস্থাও তার কাছে অতি সামান্য বলে মনে হয় এবং অন্তরের দিক থেকে সে খুবই দরিদ্র হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত আরো ভোগ করার অতৃপ্ত লালসার দংশন তাকে এমনভাবে জর্জরিত করতে থাকে, তার ধনসম্পদ যত বেশিই হোক তা তার কাছে অতি নগণ্য বলেই মনে হয়।।
আরো বেশি পাবার আকাঙ্ক্ষা তার অন্তরে সব সময় দুঃখের অনুভূতি জাগিয়ে রাখে। যা আছে তা ভোগ করে আনন্দ লাভ করতে তার আর ইচ্ছা থাকে না। যা নেই, তা পাওয়ার জন্য সে সব সময় ব্যাকুল হয়ে চেষ্টা করে এবং এতে শুধু দুঃখই বাড়ে। অন্যদিকে প্রত্যেক মানুষেরই দেশের প্রতি ও সমাজের প্রতি অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এ দায়িত্ব এত বেশি যে কখনো শেষ হয় না। সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য মানুষকে সৎ ও মহৎ করে তোলে এবং তার মন অনেক আনন্দে ভরে যায়।
দেশে ও সমাজে অসহায় নারী-পুরুষ ও জীব-জন্তু রয়েছে। তাদের সেবা করলে এবং তাদের বিপদে সাহায্য করতে পারলে অজান্তেই মানুষের মনে গভীর শান্তি ও সুখ আসে। মানুষকে সব দুঃখ ভুলিয়ে দিয়ে তার প্রাণ বেহেশতের সুখ শান্তিতে ভরে দেয়। অতএব ভোগে সুখ নেই, পরের মঙ্গলের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে পারলেই প্রকৃত সুখ পাওয়া যায় এবং জীবন সার্থক হয়।
মন্তব্য : অন্যের জন্য কাজ করার মধ্যেই মানুষের আসল সুখ ও শান্তি রয়েছে। তাই জীবনে ভালো মানুষ হতে ও সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে নিজের স্বার্থ ছেড়ে অন্যের উপকার করা প্রয়োজন।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরও
ভাবসম্পসারণ – চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ

