সিফাতে মুশাব্বাহ (صِفَة مُشَبَّهَة)অর্থ : صِفَة مُشَبَّهَة দুটি শব্দের সমন্বিত রূপ । صِفَة শব্দের অর্থ হলো – গুন, বিশেষণ। আর مُشَبَّهَة অর্থ হলো- সাদৃশ্য, উপমিত। সুতরাং صِفَة مُشَبَّهَة অর্থ- উপমিত গুন।
সংজ্ঞা : যে ইসমে মুশতাক দ্বারা এমন সত্তাকে বুঝায় যার মধ্যে مَعْنَى مَصْدَرٍ বা ধাতুগত অর্থটি স্থায়ীভাবে পাওয়া যায় তাকে صِفَة مُشَبَّهَة বলে।
নামকরণ : صِفَةٌ مُشَبَّهَةٌ দু’টি বিষয়ে اِسْمُ فَاعِلٍ এর সাথে বা সাদৃশ্য রাখে বিধায় এ নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিষয় দুটি হচ্ছে- ১. تَصْرِيفٌ বা রূপান্তর হওয়া। ২. صِفَت বা গুণবাচক হওয়া।
রূপান্তর : সিফাতে মুশাব্বাহ এর সীগাগুলো سَمَاعِي বা শ্রুত। সীগাগুলো হচ্ছে- حَسَنَاتٌ – حَسَنَتَانِ – حَسَنَةٌ – حَسَنُونَ – حَسَنَانِ – حَسَنٌ এর রূপান্তর ضَارِبَاتٌ – ضَارِبَتَانِ – ضَارِبَةٌ – ضَارِبُونَ – ضَارِبَانِ – ضَارِبٌ
সম্পর্কিত পোস্ট : ইসমে মাফউল এর অর্থ, সংজ্ঞা, সিগাহ, আমল ও গঠনপ্রণালী
সিফাতে মুশাব্বাহ এর গঠন :
صِفَةٌ مُشَبَّهَةٌ এর সীগাহ فِعْلٌ مَعْرُوفٌ لَازِمٌ হতে গঠিত হয়। তবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়মপদ্ধতি নেই। আরবি ভাষাভাষীদের নিকট থেকে শুনে বা অভিধান দেখে তা আয়ত্তে আনতে হয়। যেমন- حَسَنٌ (সুন্দর), صَعْبٌ (কঠিন), طَرِيفٌ (চতুর) ইত্যাদি।
সিফাতে মুশাব্বাহ এর আমল :
صِفَةٌ مُشَبَّهَةٌ কোন কালের শর্ত ছাড়া স্বীয় فِعْلٍ-এর অনুরূপ আমল করে। অর্থাৎ فَاعِلَ কে رَفْعٌ দান করে। তবে اِسْمُ فَاعِلٍ-এর ন্যায় صِفَةٌ مُشَبَّهَةٌ সর্বদা তার পূর্বে উল্লিখিত مُبْتَدَأ অথবা ذُو الْحَالِ অথবা প্রশ্নবোধক هَمْزَة অথবা না বোধক حَرْف-এর উপর নির্ভরশীল হবে। আর صِفَةٌ مُشَبَّهَةٌ টি مَوْصُولٍ -এর উপর নির্ভর করে আমল করে না। কেননা صِفَةٌ এর শুরুতে أَلْ যুক্ত হলে সর্বসম্মতিক্রমে তা مَوْصُولٍ এর অর্থ দেয়না।
কখনও কখনও এর مَفْعُولٍ নির্দিষ্ট বিশেষ্য পদ হলে مَفْعُولٍ (কর্ম)-এর সাদৃশ্যতার কারণে মানসূব হয় এবং অনির্দিষ্ট বিশেষ্য পদ হলে تَمْيِيزٌ (সন্দেহ নিরসনকারী) হিসেবে মানসূব হয় এবং ইযাফতের কারণে কখনও কখনও মাজরূরও হয়ে থাকে।
সম্পর্কিত পোস্ট : ইসমে তাফজিল(اِسْم تَفْضِيل) সংজ্ঞা, গঠন, ব্যবহার ও আমল
সিফাতে মুশাব্বাহ এর ব্যবহার :
সিফাতে মুশাব্বাহ -এর ব্যবহারের আঠারোটি অবস্থা হতে পারে। কেননা صِفَةٌ مُشَبَّهَةٌ -এর ব্যবহার দু’অবস্থা থেকে মুক্ত নয়। যথা-
১. হয়তো এটা أَلِف ও لَامٌ যোগে ব্যবহার হবে। যেমন- اَلْحَسَنُ
২. অথবা, أَلِف ও لَامٌ ব্যতীত ব্যবহার হবে। যেমন- حَسَنٌ
উল্লিখিত যে কোন অবস্থায় صِفَةٌ مُشَبَّهَةٌ -এর مَعْمُول নিম্নবর্ণিত অবস্থাসমূহের যে কোন এক অবস্থায় হতে পারে। যথা-
ক. হয়তো مَعْمُولٌ -টি مُضَافٌ হবে। যেমন- وَجْهُهُ
খ. অথবা, أَلِف ও لَامٌ যুক্ত হবে। যেমন- اَلْوَجْهُ
গ. অথবা, مَعْمُولٌ-টি এতদুভয় অবস্থা থেকে মুক্ত হবে। অর্থাৎ, مُضَاف ও হবে না এবং أَلِف ও لَامٌ যুক্তও হবে না। যেমন- وَجْهُ
অতএব ব্যবহারিক দিক থেকে তা ছয় প্রকার হলো। এর প্রত্যেকটিতে مَعْمُول টি নিম্নোক্ত তিনটি إِعْرَابٍ -এর কোনো একটি গ্রহণ করবে। যথা-
১. হয়তো, রফাবিশিষ্ট হবে।
২. অথবা, নসববিশিষ্ট হবে।
৩. অথবা, জারবিশিষ্ট হবে।
এ তিনটি অবস্থাকে ছয়টি প্রকারের মধ্যে গুণ করলে إِعْرَابٍ -এর পার্থক্যের মোট (৩×৬) = ১৮টি অবস্থার সৃষ্টি হয়। যেমন-
১. جَاءَنِي زَيْدٌ الْحَسَنُ وَجْهُهُ (সুদর্শন চেহারার যায়েদ আমার কাছে এসেছে)। এখানে وَجْهُهُ -এর মধ্যে তিনটি إِعْرَابٍ -এর যে কোনোটি হতে পারে। তা হলো- ক. وَجْهُهُ খ. وَجْهَهُ গ. وَجْهِهِ
২. جَاءَنِي زَيْدٌ الْحَسَنُ الْوَجْهِ – এর মধ্যে তিন প্রকার ইরাব হতে পারে। তাহা- ক. الْوَجْهُ খ. الْوَجْهَ গ. الْوَجْهِ
৩. جَاءَنِي زَيْدٌ الْحَسَنُ وَجْهٍ -এখানেও তিনটি ইরাব হতে পারে। তা হলো- ক. وَجْهٌ খ. وَجْهً গ. وَجْهٍ
৪. جَاءَنِي زَيْدٌ حَسَنٌ وَجْهُهُ -এখানেও তিন প্রকারের ইরাব হতে পারে। তা হলো- ক. وَجْهُهُ খ. وَجْهَهُ গ. وَجْهِهِ
৫. جَاءَنِي زَيْدٌ حَسَنُ الْوَجْهِ -এর মধ্যেও তিন প্রকারের ইরাব হতে পারে। তা হলো- ক. الْوَجْهُ খ. الْوَجْهَ গ. الْوَجْهِ
৬. جَاءَنِي زَيْدٌ حَسَنٌ وَجْهَ -এর মধ্যে তিন প্রকারের ইরাব হতে পারে। তা হলো- ক. وَجْهٌ খ. وَجْهٌ গ. وَجْهٍ