ফেলে আমর (فِعْلُ أَمْرٍ)-এর বর্ণনা :
اَلْأَمْرُ শব্দটি বাবে نَصَرَ-এর মাসদার। এর আভিধানিক অর্থ হলো — নির্দেশ করা, আদেশ দেয়া, হুকুম করা, to command to order anybody ইত্যাদি। যেমন আল কুরআনে এসেছে— وَمَا أَمَرُوْا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ।
পারিভাষিক সংজ্ঞা : যার দ্বারা ভবিষ্যতে কোনো কাজ সম্পাদন করার নির্দেশ প্রদান করা হয় তাকে ফেলে আমর (فِعْلُ أَمْرٍ) বলা হয় ।
ফেলে আমর এর প্রকারভেদ:
أَمْرٌ দুপ্রকার। যথা—
১. أَمْرٌ بِالصِّيْغَةِ তথা শব্দরূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত আমর।
২. أَمْرٌ بِاللَّامِ তথা لَا যোগে গঠিত আমর।
নিচে এ দুটির বিবরণ পেশ করা হলো—
১. أَمْرٌ بِالصِّيْغَةِ-এর সংজ্ঞা: فِعْلُ مُضَارِعٌ-এর শাব্দিক রূপ পরিবর্তন করে যে আমর এর সীগাহ গঠন করা হয়, তাকে أَمْرٌ بِالصِّيْغَةِ বলে। যেমন— تَفْعَلُ থেকে اِفْعَلْ ইত্যাদি।
২. أَمْرٌ بِاللَّامِ-এর সংজ্ঞা: ফেলে মুযারে-এর শুরুতে لَا যুক্ত করে যে أَمْرٌ-এর সীগাহ গঠন করা হয়, তাকে أَمْرٌ بِاللَّامِ বলে। যেমন— يَفْعَلُ থেকে لِيَفْعَلْ ইত্যাদি।
সম্পর্কিত পোস্ট : ফেলে নাহি কাকে বলে? এর গঠন পদ্ধতি,বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ
ফেলে আমার এর গঠনপ্রণালী :
فِعْلُ مُضَارِعٌ-এর সীগাহ থেকে فِعْلُ أَمْرٍ-এর সীগাহ গঠিত হয়। যথা—
ক. مُضَارِعٌ غَائِبٌ থেকে أَمْرغَائِبٌ -এর সীগাহ। যেমন— يَفْعَلُ থেকে لِيَفْعَلْ।
খ. مُضَارِعٌ حَاضِرٌ থেকে أَمْرحَاضِرٌ -এর সীগাহ। যেমন— تَفْعَلُ থেকে لِتَفْعَلْ।
গ. مُضَارِعٌ مُتَكَلِّمٌ থেকে أَمْرمُتَكَلِّمٌ -এর সীগাহ। যেমন— إِفْعَلْ থেকে لِأَفْعَلْ।
ঘ. مُضَارِعٌ مَعْرُوْفٌ থেকে أَمْرمَعْرُوْفٌ -এর সীগাহ। যেমন— يَفْعَلُ থেকে لِيَفْعَلْ।
ঙ. مُضَارِعٌ مَجْهُوْلٌ থেকে أَمْرمَجْهُوْلٌ -এর সীগাহ। যেমন— يُفْعَلُ থেকে لِيُفْعَلْ।
أَمْرٌ بِالصِّيْغَةِ-এর গঠনপ্রণালী:
أَمْرٌ بِالصِّيْغَةِ-এর সীগাহ গঠন করতে হলে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে হয়—
প্রথম পদ্ধতি : প্রথমে মুজারে -এর সীগাহ হতে চারটি আলামত তথা চিহ্ন (إ – ت – ي – ن ) বিলুপ করতে হবে। অতঃপর লক্ষ্য করতে হবে ফা কালেমা সাকিনযুক্ত কিনা। যদি সাকিনযুক্ত হয়, তবে তার প্রথমে একটি হামযা যোগ করতে হবে। শেষাক্ষর হরফে সহীহ হলে সাকিনযুক্ত করতে হবে। আর হরফে ইল্লত থাকলে বিলুপ্ত হবে। যেমন— تَنْصُرُ থেকে اُنْصُرْ অর্থ— তুমি সাহায্য কর, تَدْعُو থেকে اُدْعُ অর্থ— তুমি আহ্বান কর।
দ্বিতীয় পদ্ধতি : অতঃপর عَيْنٌ كَلِمَةٌ -এর দিকে লক্ষ্য করতে হবে; كَلِمَةٌ عَيْنٌ যদি পেশযুক্ত হয়, তাহলে হামযাটি পেশযুক্ত হবে। যেমন— تَدْخُلُ থেকে اُدْخُلْ অর্থ— তুমি প্রবেশ কর।
আর عَيْنٌ كَلِمَةٌ যদি যবর বা যের যুক্ত হয়, তাহলে হামযাটি যের যুক্ত হবে। যেমন— يَفْتَحُ থেকে اِفْتَحْ অর্থ তুমি খোল। يَضْرِبُ থেকে اِضْرِبْ অর্থ— তুমি মার।
তৃতীয় পদ্ধতি : مُضَارِعٌ-এর চিহ বিলুপ করার পর فَا كَلِمَةٌ যদি হরকতযুক্ত হয়, তাহলে হামযা যোগ করতে হবে না, তবে শেষাক্ষর সাকিনযুক্ত হবে। যেমন— تَعِدُ থেকে عِدْ অর্থ— তুমি ওয়াদা কর। আর শব্দের শেষ অক্ষরটি যদি حَرْفُ عِلَّةٌ হয়, তাহলে তা বিলুপ্ত হবে। যেমন— تَقِي থেকে قِ অর্থ— তুমি রক্ষা কর।
সম্পর্কিত পোস্ট : ফেলে মাজি(فِعْلُ مَاضِي )সংজ্ঞা,প্রকারভেদ, গঠনপ্রণালী, উদাহরণ
أَمْرٌ بِاللَّامِ-এর গঠনপ্রণালী:
أَمْرٌ بِاللَّامِ এর সীগাহ গঠন করতে হলে مُضَارِعٌ-এর সীগার শুরুতে لَا مَكْسُوْرٌ তথা যেরযুক্ত একটি لَام নিতে হবে। এটিকে لَامُ الْأَمْرِ বলা হয়। শেষ বর্ণে حَرْفُ عِلَّةٌ না থাকলে সাকিন করতে হবে। حَرْفُ عِلَّةٌ থাকলে তা বিলুপ্ত করবে। যেমন—
- يَبْخَشُ থেকে لِيَبْخُشْ,
- يَدْعُوْ থেকে لِيَدْعُ
- يَفْعَلُ থেকে لِيَفْعَلْ।