মনে কর, তুমি আসিফ। তুমি বরগুনার তালতলির বাসিন্দা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে তোমার অভিমত জানিয়ে পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী একটি পত্র লেখ।
বা, সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে তোমার মতামত জানিয়ে কোন পত্রিকায় প্রকাশোপযোগী একখানা পত্র রচনা কর।
তারিখ: ০৩/০৪/২০.. ইং
বরাবর
সম্পাদক
দৈনিক মানবজমিন,
৪০, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ
কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
বিষয়: সংযুক্ত পত্রটি প্রকাশের জন্য আবেদন।
জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় নিম্নলিখিত পত্রটি প্রকাশ করলে বাধিত হব।
বিনীত
আসিফ
তালতলি, বরগুনা।
‘সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিকার চাই’
বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ঘটছে অসংখ্য দুর্ঘটনা প্রতিমুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারী। সাধারণত আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনাগুলো কয়েকটি কারণে হয়ে থাকে: ক ত্রুটিযুক্ত গাড়ি; খ. অনভিজ্ঞ বা নেশাখোর ড্রাইভার; গ. ধারণক্ষমতার অধিক মাল বা যাত্রী বহন; ঘ. ওভারটেকিং বা চালকদে দায়িত্বহীনতা; ৬. ট্রাফিক আইন না মানার মানসিকতা ইত্যাদি। এই সমস্যা সমাধানে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে পাশাপাশি কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। যেমন:
১. সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ওভারটেকিং নিষিদ্ধকরণ ও তা কার্যকর করার জন্য ভ্রাম্যমাণ পুলিশ মোতায়েন করা।
২. ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ ও দুর্নীতি রোধ করা।
৩. সড়ক আইনগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করে চালকদের মধ্যে একটা ভীতির সৃষ্টি করা।
৪. অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাইয়ের প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
আশা করি, উপর্যুক্ত কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে যথাযথ কর্তৃপক্ষেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
নিবেদক
আসিফ
তালতলি, বরগুনা।
👉মনে কর, তোষার নাম সুমনা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে তোমার মতামত জানিয়ে কোনো পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী একখানা পত্র রচনা কর ।
তারিখ: ০৮/০১০/২০.. ইং
সম্পাদক,
দৈনিক যুগান্তর
বসুন্ধরা, ঢাকা।
বিষয়: চিঠিপত্র কলামে নিচের সংবাদটি প্রকাশের আবেদন।
জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত ও প্রশংসিত ‘দৈনিক যুগান্তর’ পত্রিকায় নিম্নের সংবাদ শিরোনামটি প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের কৃতজ্ঞতাভাজন হবেন।
নিবেদক-
সামীমা শামসাদ
উত্তরা, ঢাকা।
নিরাপদ সড়ক চাই
অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নামই দুর্ঘটনা। বিভিন্ন দুর্ঘটনার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা একটা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে তিন জন করে, বছরে এক হাজারের উপরে লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে। আর চিরতরে পঙ্গু হচ্ছে তার পাঁচ থেকে সাত গুণ লোক। সড়ক দুর্ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক। সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বয়স ও পেশার লোক। সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের কাছ থেকে আত্মীয়-স্বজন, মেধাবী লোক, প্রিয় ব্যক্তিত্বকে কেড়ে নিলেও আমরা কেউই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেন্ট নই। অপর দিকে সড়ক দুর্ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের কর্মকান্ড দেখেই মনে হয় যে, সড়ক দুর্ঘটনা স্বাভাবিক ব্যাপার এবং এটা ঘটবেই। জন্মিলে মরতে হবে এটাই চিরন্তন সত্য। কিন্তু দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু বড়ই অস্বাভাবিক এবং বেদনাদায়ক। তাই এ অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া প্রয়োজন। এর সাথে সংশ্লিষ্টরা চাইলে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ ড্রাইভারদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো, বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, ত্রুটিপূর্ণ রাস্তাঘাট, লাইসেন্সের কারচুপি ইত্যাদির প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখলে দুর্ঘটনার পরিমাণ অনেক কমাতে পারে। তাই নিরাপদ সড়কের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করছি:
১. ড্রাইভারদের কারিগরি শিক্ষার সাথে সাথে নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে।
২. লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
৩. রাস্তার ট্রাফিক ও পুলিশ প্রশাসনের অসাধুতা রোধ করতে হবে।
৪. ত্রুটিমুক্ত যানবাহন, চলাচল উপযোগী রাস্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. দুর্ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
৬. অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই বন্ধ করতে হবে।
৭. রাস্তা সোজা ও এর প্রশস্ততা বৃদ্ধি করতে হবে।
৮. শহরে জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. রাস্তা চলাচলে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন, ডকুমেন্টারী ফিল্ম ইত্যাদি প্রচারের পাশাপাশি স্কুলে এ বিষয়ে সিলেবাস ভিত্তিক শিক্ষা দেয়া যেতে পারে।
উল্লিখিত সুপারিশসমূহ কার্যকর করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তাই তা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।
নিবেদক
সামীমা শামসাদ
উত্তরা, ঢাকা।