প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুগণ, তোমাদের শেখার সুবিধার্থে ” সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে অথবা সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ ” ভাবসম্প্রসারণটি ৩টি বই থেকে সংগ্রহ করে। তোমাদের কাছে যেটা সবচেয়ে সহজ মনে হয় সেটাই শিখে নিতে পারো।
সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে অথবা সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ ভাবসম্প্রসারণ – ১
মূলভাব : জীবনের যথার্থ ও সুষ্ঠু বিকাশ সাধনের জন্য সৎ সাহচর্যের বিশেষ প্রয়োজন। সৎসঙ্গ মানুষের জীবনকে পরিপূর্ণতার দিকে উন্নীত করে। পক্ষান্তরে অসৎসঙ্গ তার ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা, সুনাম এমনকি সাফল্যকেও ধ্বংস করে।
সম্প্রসারিত-ভাব : চরিত্র মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ। কোনো ব্যক্তির আচরণ ও আদর্শের প্রকৃত পরিচয় নিহিত তার চরিত্রের মধ্যে। চরিত্রের ত্রুটি মানুষকে নিন্দিত করে। আবার চরিত্রের গুণেই মানুষ নন্দিত হয়। তাই কুসঙ্গ ত্যাগ করে, সৎ সঙ্গের মধ্য দিয়েই তার নিজেকে বিকশিত করে তুলতে হবে। কেননা, কুসঙ্গে মানুষ অমানুষে পরিণত হয়ে তার সদগুণাবলি নষ্ট হয়। ফলে সে বিচ্যুত হয়ে যায় সত্য পথ থেকে।
লোহা ওজনে খুব ভারী বলে তা পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু লোহা যদি কোনো হালকা পদার্থের সঙ্গে বেঁধে দেয়া হয়, তাহলে তা না ডুবে ভেসে ওঠে। তেমনি মানুষের জীবনে সঙ্গীর প্রভাবও সেরকম। সৎসঙ্গের প্রভাবে ব্যক্তির নির্মল চরিত্র নির্মল থাকে এবং তা আরও বিকশিত হবার সুযোগ পায়। পরশপাথরের ছোঁয়ায় লোহা যেমন সোনা হয়ে যায় তেমনই সৎ মানুষকে সঙ্গী হিসেবে পেলে তার প্রভাবে অমানুষ সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হয়ে ওঠে। ফলে ঘুচে যায় তার কলুষতা, দূর হয়ে যায় তার পশুবৃত্তি। জন্ম নেয় সৎ, সুন্দর, আদর্শ ও মহৎ জীবন।
মন্তব্য : জীবনে সুখী হতে হলে এবং নিজের প্রতিভা ও ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে তুলতে সৎসঙ্গের কোনো বিকল্প নেই ।
আরও পড়ুন :- ভাবসম্প্রসারণ : দশে মিলে করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ (৩টি)
সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে অথবা সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ ভাবসম্প্রসারণ – ২
মূলভাব : পরিবেশ এবং পরিস্থিতির কারণে যে কোন কিছুরই আমূল পরিবর্তন সাধিত হতে পারে ।
সম্প্রসারিত ভাব : মানব জগত এবং বস্তু জগত বহুলাংশে পরিবেশের উপর নির্ভরশীল । পরিবেশের আলো বাতাসে সে বর্ধিত হয় । পরিবেশের আচার ব্যবহার এবং কর্তব্য কর্মাদি দ্বারা যে বিপুলভাবে প্রভাবিত হয় । ফলে অনেক সময় স্বকীয় সত্ত্বা রক্ষা করা দায় হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে সে পরিবেশের দাসে পরিণত হয় ।
আমরা জানি লোহা খুব ভারী বস্তু। এই লোহা সাধারণত পানিতে ভাসে না । ডুবে যায়, কিন্তু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লোহাকে পানিতে ভাসিয়ে রাখার ব্যবস্থা উদ্ভাবনের পর পর লোহা পানিতে ভাসতে শুরু করেছে। এই লোহা নির্মিত লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ প্রভৃতি নদীতে ভাসে পানির উপর বিস্তরণ করে। লোহার মত অনুরূপ এই মানব সমাজ, বিশেষ করে যুব সমাজ সঙ্গদোষে নিজেদের স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে নেশার নির্বেদে নিজেদেরকে ঠেলে দেয়। অবক্ষয়ের অতলে তারা হারিয়ে যায়। ফলে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি এবং ধর্ষণের মত মারাত্মক অপকীর্তিতে তারা নিজেদের জড়িয়ে ফেলে।
মন্তব্য : যেহেতু সঙ্গদোষে সব কিছু পরিবর্তিত হয়। সুতরাং সকলেরই উচিত কু-সঙ্গ ত্যাগ করে সৎ সঙ্গে বসবাস করা ।
আরও পড়ুন :- ভাবসম্প্রসারন : পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি (৩টি)
সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে অথবা সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ ভাবসম্প্রসারণ – ৩
মূলভাব : সৎ ও সুন্দর চরিত্রের লোকের সাথে মিশলে জীবন সুন্দর হয়। আর অসৎ লোকের সাথে মিশলে জীবনে সর্বনাশ ঘটে থাকে।
সম্প্রসারিত ভাব : পৃথিবীতে যেমন সৎ লোক আছেন, তেমনি অসৎ লোকও আছে। অসৎকে সমূলে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তবে অসতের সঙ্গ পরিত্যাগ করে চলা উচিত। কারণ অসৎ লোকের সাথে চলাফেরা করলে তার স্বভাবের প্রভাব বা ছায়া ভালো লোকের জীবনেও পড়তে বাধ্য। সৎ লোকের সাথে চলাফেরা করলে জীবন সৎ, সুন্দর ও পূর্ণতা পায়। আর অসৎ লোকের অনুসরণে জীবনে আসে পাপ, হতাশা এবং পরিণামে চরম বঞ্চনা, ঘৃণা, গঞ্জনা জীবনকে করে তোলে বিষময়। মানুষ পৃথিবীতে যেমন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, আনন্দ কামনা করে পরকালেও তেমনি স্বর্গ লাভের বাসনা পোষণ করে। এ সব গুণ বা আকাঙ্ক্ষার পূরণ কোনোদিনই অসৎ পথ অবলম্বন করে সম্ভব নয়। সজ্জন ও সাধু লোকের সাহচর্যই মানুষকে উন্নত করে। মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হলে সর্বদা জ্ঞানী ও সৎ লোকের অনুসরণ করা প্রয়োজন। ভালো পথে চললে জীবনে শান্তি আসে, কল্যাণময় হয়ে ওঠে তার পরিবেশ। পৃথিবীতেই মানুষ স্বর্গ-সুখ লাভ করে। আর মরণেও তারা পুণ্যের পুরস্কার স্বরূপ স্বর্গ অর্জন করবে। আর অসৎ লোকের সংস্পর্শে এলে ভালো লোকও মন্দ হয়ে যায়। পাপ পংকিলতায় ডুবে যায়। জীবনে হীনতা ও কুশ্রীতা দেখা দেয়। তারা নরকের কীটস্বরূপ। পৃথিবীতে যেমন তারা অশান্তীর জ্বালা অনুভব করে, তেমনি মরণেও তারা নরক যন্ত্রণা ভোগ করবে।
মন্তব্য : তাই সবসময় সৎলোকের সংস্পর্শে এসে সৎপথ অনুসরণ করা এবং অসৎ লোকের সঙ্গ পরিত্যাগ করা উচিত।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরও
ভাব সম্প্রসারণ : শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির (২টি)

