ইসমে মাফউল আভিধানিক অর্থ : اِسْمُ الْمَفْعُولِ দুটি শব্দযোগে গঠিত একটি অসম্পূর্ণ বাক্য। এখানে اِسْمٌ অর্থ – বিশেষ্য। আর الْمَفْعُولُ শব্দটি فِعْلٌ শব্দমূল হতে একবচনের শব্দ, বহুবচনে مَفَاعِيلُ। আভিধানিক অর্থ – الَّذِي فُعِلَ তথা যে কাজ করা হয়েছে, কর্ম।
পারিভাষিক সংজ্ঞা : ইসমে মাফউল এমন ইসমে মুশতাককে বলা হয়, যা নির্দেশ করে এমন সত্তাকে যার ওপর কর্তার ক্রিয়াটি পতিত হয়েছে।
ইসমে মাফউল -এর গঠনপ্রণালী :
اِسْمُ الْمَفْعُولِ দু’ভাবে গঠিত হয়। যথা—
১। তিন অক্ষরবিশিষ্ট فعل তথা الْفِعْلُ الثُّلَاثِيُّ الْمُجَرَّدُ থেকে।
২। তিন অক্ষর ব্যতীত অন্যান্য فعل তথা الْفِعْلُ غَيْرُ الثُّلَاثِيِّ الْمُجَرَّدِ থেকে। এতদুভয়ের বিবরণ নিচে প্রদান করা হলো—
১। তিন অক্ষরবিশিষ্ট فعل থেকে اِسْمُ الْمَفْعُولِ গঠন : তিন অক্ষরবিশিষ্ট فعل থেকে مَفْعُولٌ-এর ওজনে اِسْمُ الْمَفْعُولِ গঠিত হয়। অর্থাৎ عَلَامَةُ الْمُضَارَعَةِ-কে বিলোপ করার পর সেখানে একটি যবরবিশিষ্ট مِيمٌ যুক্ত করে عَيْنُ ও لَامُ الْكَلِمَةِ-এর মাঝে একটি وَاوٌ বৃদ্ধি করতে হবে এবং عَيْنُ الْكَلِمَةِ-কে পেশ দিতে হবে। অতঃপর لَامُ الْكَلِمَةِ-কে তানভীন প্রদান করলে ইসমে মাফউল গঠিত হয়। যেমন—
- يُنْصُرُ থেকে مَنْصُورٌ
- يُضْرِبُ থেকে مَضْرُوبٌ
- يُفْتَحُ থেকে مَفْتُوحٌ
সম্পর্কিত পোস্ট : ইসমে ফায়েল(أسم فاعل)অর্থ,সংজ্ঞা,সিগাহ,আমল ও গঠনপ্রণালী
২। غَيْرُ الثُّلَاثِيِّ থেকে ইসমে মাফউল গঠন : তিনের অধিক অক্ষরবিশিষ্ট فعل থেকে اسْمُ الْمَفْعُولِ গঠন করতে হলে عَلَامَةُ الْمُضَارِعِ-কে বিলোপ করে তার স্থলে একটি পেশবিশিষ্ট مِيمٌ যোগ করে لَامُ الْكَلِمَةِ-কে তানভীন দিয়ে তার পূর্বের অক্ষরকে فَتْحَة প্রদান করলে اسْمُ الْمَفْعُولِ গঠিত হবে। যেমন — يُجْتَنِبُ থেকে مُجْتَنَبٌ
প্রকাশ থাকে যে, اسْمُ الْمَفْعُولُ টি الْفِعْلُ الْمُتَعَدِّي থেকেই গঠিত হয়। আর যদি الْفِعْلُ اللَّازِمُ থেকে গঠন করতে হয়, তাহলে حَرْفُ الْجَرِّ-এর সাহায্যে গঠন করা যায় ।
যেমন — يُغْضَبُ থেকে مَغْضُوبٌ
ইসমে মাফউল এর সিগাহ সমূহ :
ইসমে মাফউল এর সিগাহ মোট ছয়টি। যথা –
১। الثُّلَاثِيُّ الْمُجَرَّدُ-এর সিগাহ :
مَفْعُولَاتٌ – مَفْعُولَتَانِ – مَفْعُولَةٌ – مَفْعُولُونَ – مَفْعُولَانِ – مَفْعُولٌ
২। غَيْرُ الثُّلَاثِيِّ-এর সিগাহ : এটি বিভিন্ন বাব থেকে বিভিন্ন ওযনে হয়ে থাকে। যথা –
مُجْتَنَبَاتٌ ,مُجْتَنَبَتَانِ ,مُجْتَنَبَةٌ ,مُجْتَنَبُونَ ,مُجْتَنَبَانِ ,مُجْتَنَبٌ
সম্পর্কিত পোস্ট : আমেল(العَامِلُ) কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি উদাহরণ সহ
ইসমে মাফউল এর আমল :
ইসমে ফায়েল যে শর্তে আমল করে ইসমে মাফউল ও সেই শর্তে দৃঢ়তা অর্জন করে, ফেলে মাজহুল এর ন্যায় আমল করে। যেমন- حَالٌ বা مُسْتَقْبِل এর অর্থে- زَيْدٌ مَضْرُوبٌ غُلَامُهُ الآنَ أَوْ غَدًا(যায়েদ, তার চাকর এতক্ষণে অথবা আগামীকাল প্রহূত হবে) আর مَاضي এর অর্থে زَيْدٌ مَضْرُوبٌ غُلَامُهُ أَمْسِ (যায়েদ, তার চাকর গতকাল প্রহূত হয়েছে)।
ইসমে ফায়েল এর ন্যায় ইসমে মাফউল ও ছয়টি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল – সেগুলো হলো-
১। مُبْتَدَا-এর উপর নির্ভরশীল হওয়া। যেমন- زَيْدٌ مَضْرُوبٌ أَبُوهُ (যায়েদ, তার পিতা প্রহৃত)।
২। ذُو الْحَال-এর উপর নির্ভরশীল হওয়া। যেমন— جَاءَنِي زَيْدٌ مَضْرُوبًا أَبُوهُ (যায়েদ, তার পিতা প্রহৃত হয়ে, আমার কাছে আসল)।
৩। الاِسْمُ الْمَوْصُول-এর উপর নির্ভরশীল হওয়া। যেমন-مَرَرْتُ بِالْمَضْرُوبِ أَبُوهُ (আমি এমন ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম, যার পিতা প্রহৃত)।
৪। مَوْصُوف-এর উপর নির্ভরশীল হওয়া। যেমন- عِنْدِي رَجُلٌ مَضْرُوبٌ أَبُوهُ (আমার কাছে এমন একজন লোক আছে, যার পিতা প্রহৃত)।
৫। هَمْزَةٌ الاِسْتِفْهَام-এর উপর নির্ভরশীল হওয়া। যেমন- أَمَضْرُوبٌ زَيْدٌ؟ (যায়েদ কি প্রহৃত?)।
৬। حَرْفُ النَّفْي-এর উপর নির্ভরশীল হওয়া। যেমন -مَا مَضْرُوبٌ زَيْدٌ (যায়েদ প্রহৃত নয়)।