মুরশিদ(مُرشِد )অর্থ কি ? কাকে বলে। কামিল মুর্শিদ হওয়ার শর্তাবলী

একজন কামিল মুরশিদ মানে পরিপূর্ণ পথপ্রদর্শক। যেহেতু তিনি নিজে অন্যদের পথপ্রদর্শক হবেন তাই তাকে সর্বাগ্রে বিশুদ্ধ জ্ঞান, প্রজ্ঞা, গুণাবলি এবং ঈমান আমলে পরিপূর্ণ ও ইবাদতে একনিষ্ঠ হতে হবে। কামিল মুরশিদকে ইসলামের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, সুন্দর চরিত্র এবং যাবতীয় সদগুণের অধিকারী হতে হবে।

তাকে দেখে যেন তার অনুসারীরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং দীনের প্রতি আকৃষ্ট হয় এমন নজির স্থাপন করতে পারে। সকল প্রকার মন্দ ও পাপ কাজ থেকে অবশ্যই তিনি বিরত থাকবেন। তাঁর স্বভাব চরিত্র হবে উত্তম আদর্শ ও অনুকরণীয়।

মুরশিদ অর্থ কি ?

مُرشِد শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ হলো —

১. পথপ্রদর্শক, ২. শিক্ষক, ৩. অভিভাবক, ৪. উপদেষ্টা, ৫. উপদেশদাতা, ৬. সঠিক পথের দিশাদানকারী, ৭. ইরশাদকারী, ৮. ইংরেজিতে এর প্রতি শব্দ হলো— The Guide, The teacher, The guardian, The adviser ইত্যাদি।

মুরশিদ কাকে বলে ?

১. মুরশিদ-এর সংজ্ঞায় ইমাম গাযালী (র) বলেন— মুরশিদ ঐ ব্যক্তি যার অভ্যন্তর থেকে সম্পদ সম্মান ও ঘর-বাড়ি তৈরির লোভ দূরীভূত হয়ে যায়। আর তার পরিচর্যা হবে আরেকজন কামিল মুরশিদের হাতে এবং এভাবে চলতে চলতে ধারাবাহিকতা রাসূল (স) পর্যন্ত পৌঁছবে।

২. জমহুর আলেমের মতে, কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক শাসন ক্ষমতা অর্জনকারীকে مُرشِد বলা হয়।

৩. ফকিহদের দৃষ্টিতে مُرشِد বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর গুণাবলির পরিচয় লাভ করেছে, সাধ্যমতো আনুগত্য প্রদর্শন করে, পাপের কাজ হতে বিরত থাকে এবং প্রকৃতিগত বিষয়াদি ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত থাকে।

৪. কেউ কেউ বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক অন্যদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়, তাকে مُرشِد বলা হয়।

মূলকথা, মুরশিদ হলো ঐ ব্যক্তি যার মধ্য হতে সকল লোভ দূরীভূত হয়ে যায়, কঠোর সাধনার বাদ উপভোগ করে, উত্তম স্বভাব ও প্রশংসনীয় চরিত্রে ভূষিত হবে, অসৎ গুণাবলি হতে পবিত্র হবে এবং যে সকল উচ্চাশা থেকে মুক্ত থাকবে।

আরো পড়ুন : ইলমে তাসাউফ কাকে বলে? এর অর্থ,গুরুত্ব , লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

কামিল মুরশিদ হওয়ার শর্তাবলি:

কামিল মুরশিদ হওয়ার জন্য কতিপয় শর্ত রয়েছে যেগুলো পাওয়া গেলেই কেবল একজন ব্যক্তিকে কামিল মুরশিদ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো—

১. পূর্ণ ঈমান: একজন কামিল মুরশিদকে হতে হবে কামিল ঈমানদার, সহিহ আকিদার অধিকারী এবং তাকওয়ার সর্বোচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত। যেমন মহান আল্লাহ বলেন— اٰمَنُوْا وَكَانُوْا يَتَّقُوْنَ অর্থাৎ, যারা ঈমান আনে এবং তাকওয়া তথা পরহেযগারী বজায় রাখে।

২. কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান : একজন কামিল মুরশিদকে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের হাদিসের জ্ঞানে জ্ঞানী হতে হবে। তার অনুসারীগণ যেন প্রশ্ন করলে সঠিক জবাব পায়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন—

فَسْئَلُوْا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ۔
إِنَّمَا يَخْشَى اللّٰهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ۔

৩. ন্যায়পরায়ণতা : একজন কামিল মুরশিদকে হতে হবে ন্যায়পরায়ণ, কবিরা গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, সগিরা গুনাহও তার দ্বারা বারবার সংঘটিত হবে না। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন—

إِنَّمَا يَخْشَى اللّٰهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ

৪. দুনিয়াবিমুখ : একজন কামিল মুরশিদকে হতে হবে দুনিয়াবিমুখ, আখেরাতের প্রতি উন্মুখ, নেক কাজ এবং যিকিরে সদা মশগুল। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন—

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّشْرِيْ نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللّٰهِ

৫. সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান : একজন কামিল মুরশিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যে, তিনি হবেন সৎকাজের আদেশদাতা এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধকারী।

৬. অলীগণের সংসর্গ : কামিল মুরশিদের বৈশিষ্ট্যাবলির অন্যতম একটি হলো তারা অলীগণের তথা কামিল মুরশিদের সুহবতপ্রাপ্ত হবেন। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাদের সাথে আদব সহকারে অবস্থান করবেন। তাদের কাছ থেকে আধ্যাত্মিক নূর ও প্রশান্তি লাভ করবেন।

পরিশেষে : একজন কামিল মুরশিদ হবেন ইসলামী শরীয়তের পূর্ণ অনুসারী, দুনিয়াবিমুখ ও আখেরাতমুখী। সদা সত্যের উপর অটল ও পরহেযগার। অন্যথা কাউকে সত্যিকারের মুরশিদ বলা যাবে না।

শিক্ষাগার

প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে

মাহমুদুল হাসান

শিক্ষাগত যোগ্যতা
গণিতে অনার্স ও মাস্টার্স

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফাজিল সম্পন্ন

গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসা

বিশেষ দক্ষতা

বাংলা সাহিত্য • গণিত • ইসলামিক শিক্ষা

অভিজ্ঞতা

শিক্ষকতা ও ৫+ বছর কন্টেন্ট রাইটিং

আমাদের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা সামগ্রী প্রদান করা। ২০২৩ সাল থেকে লাখো শিক্ষার্থী শিক্ষাগার থেকে উপকৃত হচ্ছে।

Leave a Comment